অনলাইন থেকে আয়

অনলাইন থেকে ইনকাম বা আয় এই শব্দটি প্রতিদিন হাজারো মানুষ সার্চ করে থাকে, কেনো সার্চ করে জানেন? কারন তারা অনলাইন থেকে আয়ের পদ্ধতি শিখে আয় করতে চায়, কিভাবে অনলাইন থেকে আয় করবে তা শিখতে চায়। ইন্টারনেটের সহজ লভ্যতার কারনে মানুষ ঝুকছে অফলাইন থেকে অনলাইনে। ইন্টারনেট যে কতটা প্রভাব ফেলেছে আমাদের উপর, জীবন যাত্রার দিকে খেয়াল করলেই বুঝা যায়। প্রযুক্তির উন্নতি সাথে সাথে মানুষ গুলিও যেন যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে। এখন আর হাজার মাইলের দুরে গিয়ে কেউ চাকুরি করার কথা ভাবেনা। ঘরে বসে কিভাবে আয় করা যায় সেটির দিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বেশি। অনলাইন থেকে আয়ের নিজস্ব কৌশল খুজছে মানুষ। অনেকের অনলাইন আয়ের পথ ইতিমধ্যে তৈরী হয়ে গেছে। আর যারা এখনও শুরু করতে পারেনি তারাই হয়তো এই আর্টিকেলটি পড়ছেন। না হলে “অনলাইন থেকে আয়” লিখে কেনো সার্চ করেছেন!! যাই হোক আপনাকে স্বাগতম। অনলাইন থেকে আয়ের যেমন অসংখ্যা রাস্তা রয়েছে, রয়েছে তেমনি প্রতারিত হওয়ার সুযোগ। রাতারাতি কোটি হওয়ার স্বপ্ন দেখে পরের দিন রাস্তায় বসতে হয়। পৃথিবীর কোথাও রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার সুযোগ নেই। যদি না চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজি,চাদাবাজি না করে। তাহলে হয়তো বলতে পারেন এখন যারা কোটিপতি আছে তারা কিভাবে হয়েছে। আপনি যদি সঠিক খোজ নিয়ে দেখেন, তাহলে দেখবেন কোটিপতি সকলেরই পিছনের গল্পগুলো আপনাকে একটু হলেও নাড়া দেবে। যাই হোক সেদিকে যাচ্ছি না।



online income


আজকের বিষয় হচ্ছে অনলাইন থেকে আয়, সে বিষয় নিয়েই কথা বলবো।

যেহেতু আপনি এই কিওয়ার্ডটি দিয়ে সার্চ করেছেন কিভাবে অনলাইন থেকে আয় করবেন, সেহেতু বুঝতেই পারছি আপনি একজন সৃজনশীল অথবা নতুন কিছু শুরু করার অগ্রগামী সৈনিক। কথাটা হয়তো বেশিই বলে ফেললাম, এভাবে বলার কারন হলো যেখানে হাজারো লক্ষ যুবক-যুবতী সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে হতাশার আড়ালে। আপনি হয়তো সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে চাচ্ছেন। আমার অভিপ্রায়টি যদি ঠিক হয়ে থাকে তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন, এখান থেকেই হয়তো আপনার ক্যারিয়ারের একটা সূর্য উদয় হবে। দেখুন, জীবনে কিছু করতে হলে অবশ্যই সঠিক একটা পথ বেছে নিতে হবে। চোখ বন্ধ করে একটা সিদ্বান্ত নিন কোন পথে যাবেন। মানুষ জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে সিদ্বান্ত পরিবর্তন করে হরহামেশাই। সময়ের পরিক্রমায় আজকের সঠিক সিদ্বান্তটি হয়তো আগামীকাল ভুল বলেও মনে হতে পারে। মানুষের ক্রিয়েটিভিটি অসম। অনেক ক্রিয়েটিভ ব্যাক্তি আছে যারা সঠিক গাইডলাইনের কারনে নিজেকে বিকশিত করতে পারছেনা। ইউটিউব, ফেসবুক, ব্লগ বা ওয়েবসাট একসকল অনলাইন উপাদানই আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে। অনলাইন থেকে ইনকামের হাজারো শাখা-প্রশাখার মধ্যে গুরুত্বপূর্ন কিছু শাখা নিয়েই আপনাদের ধারনা দেওয়ার চেস্টা করবো।


হাজারো অনলাইন আয়ের  প্লাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু মাধ্যম হলো,

  • ওয়েবসাইট থেকে আয়,
  • ব্লগিং সাইট থেকে আয়,
  • ফ্রিল্যান্সিং করে আয়,
  • সিপিএ মার্কেটিং করে আয়,
  • এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়,
  • অনলাইন সার্ভে করে আয়,
  • প্রোগ্রামিং করে আয়,
  • গুগল এডসেন্স দিয়ে আয়,
  • কনটেন্ট রাইটিং করে আয়,
  • পিটিসি সাইট থেকে আয়,

উল্লেখিত মাধ্যম ছাড়াও আরো হাজারো ক্যাটাগরি রয়েছে যেগুলোও অনলাইন আয়ের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। আজকের এই আর্টিকেলে উপরে উল্লখিত মাধ্যম গুলো নিয়েই আপনাদের সামনে আলোচনা করবো। আপনি একটি বিষয় ঠান্ডা মস্তিস্কে ভেবে দেখুন, আরো অন্য দশজন স্কুল কিংবা কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মত আপনিও আপনার মূলবান সময়টুকু ফেইসবুক, টুইটার ও ইউটিউবে ফানি ভিডিও দেখা সহ বিভিন্ন রকম সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ব্যয় করছেন। কখনো কখনো আমার নিজের প্রতিও খুব দুঃখ হয় কেন আমি বিগত বৎসরগুলোতে এ সকল সাইটে অযথা সময় ব্যয় করলাম। আমি নিজে প্রায় দুই বৎসর ফেইসবুক, টুইটার এবং বিভিন্ন অনলাইন গেম খেলে সময় পার করেছি। এখন আমি ভাবি কেন আমি এ সময়টুকো ঐ সমস্ত সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ব্যয় না করে ব্লগিং করে কাটালাম না।

এ রকম আমার আপনার অনেক বন্ধু বান্ধব আছে যারা ঠিক একইভাবে বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগের সাইটে চ্যাট করে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা সময় পার করে দিচ্ছে। আপনি যদি হিসাব করে দেখেন, আপনি প্রতিদিন গড়ে কতটুকু সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করে পার করছেন, তাহলে বেশীরভাগ লোকই বলবে ২-৩ ঘন্টা। তাহলে আপনি কি ভাবছেন এ সংখ্যা বছরে কতয় গিয়ে দাড়াচ্ছে। বছরে অন্তত ১০০০-১২০০ ঘন্টা পার করছেন ইন্টারনেটে বিভিন্ন সমাজিক যোগাযোগ এর সাইটে চ্যাট করে। কিন্তু একবারও কি আপনি নিজের কাছে প্রশ্ন করেছেন যে, আপনার এ মূল্যবান সময়গুলো ব্যয় করে আপনি কি পেয়েছেন? আমিত নির্ধিদ্বায় বলতে পারি এর শুরু থেকে শেষ অব্দি শুধু শূন্য আর শূন্য।
আপনার মূ্ল্যবান সময়ের সামান্য সময় ব্যয় করে যদি কিছু টাকা পয়সা ইনকাম করে নিজের প্রয়োজন মিটাতে পারেন, তাহলে অন্যের কাছ থেকে ধার কর্জ করে চলার চেয়ে খারাপ কি? ইন্টারনেট জগৎটা Facebook, Social Media and Gaming এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনার সামান্য ইচ্ছা শক্তির বলে আপনি ইন্টারনেট হতে কিছু টাকা আয় করতে পারেন। এই জন্য আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিভাবে ছাত্র-ছাত্রী, গৃহিনী এবং কিশোর বয়সি আধুনিক জেনারেশনরা ইন্টারনেট হতে অল্প কিছু টাকা উপার্জন করে নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মিটাতে পারেন। চলুন শুরু করা যাক।


ওয়েবসাইট থেকে আয়,


ওয়েবসাইট থেকেও আয় করা যায়? হ্যা আপনি ঠিকই শুনছেন। কিন্তু কিভাবে? আপনারা একটু খেয়াল করে দেখবেন প্রায়ই আমরা টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা অথবা পোস্টারের মাধ্যমে দেখতে পাই তাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। আরেকটি উদাহরণ যদি দেখাই, তাহলে দেখবেন বাংলাদেশের একটি ওয়েবসাইট বিক্রয় ডট কম এই ওয়েবসাইটি ভিজিট করার জন্য কত দিন হবে বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছে টিভিতে। এতে তাদের লাভ কি? তাহলে বলি লাভ কি এবং কিভাবে? আপনি যদি একজন অনলাইন সার্চ এক্সপার্ট হয়ে থাকেন তাহলে যেকোনো একটি ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে দেখুনতো সেখানে ডানে বামে উপরে নিচে কোনা প্রকার এডভারটাইস সো করছে কিনা। নিশ্চই হ্যা বলবেন। সেটাই হচ্ছে অনলাইন ইনকামের কারিশমা। তাহলে কিভাবে? গুগল এডসেন্সের নিয়ম অনুযায়ী তাদের ওয়েবসাইটে গুগল থেকে সার্চ করে ভিজিটর আসে এবং ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখা গুলো দেখে এবং পড়ে তাহলে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আপনার ইনকাম জেনারেট হবে। ইনকাম জেনারেট করার জন্য প্রথমে আপনাকে গুগর এডসেন্সে আবেদন করতে হবে। এডসেন্স থেকে অনুমোদন করার পর আপনার ওয়েবসাইটে এড বসিয়ে দিলেই শুরু হয়ে যাবে আপনার ইনকাম। তবে ইনকাম করার জন্য অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়াতে হবে। ভিজিটর বাড়াতে হলে অবশ্যই আপনাকে এসইওতে এক্সপার্ট হতে হবে। গুগলের বিজ্ঞাপন যখন সাইটে দেখানো শুরু হবে এবং তাতে ক্লিক পড়বে, তখন আয় আসতে শুরু করবে। ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বা দর্শক যত বেশি হবে, আয়ের পরিমাণ তত বাড়বে।


এখন আসা যাক কিভাবে শুরু করবেন ওয়েবসাইট থেকে আয়?

যেহেতু একজন বিগেইনার হিসেবে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম শুরু করতে চান, তাহলে আমি আপনাকে পরামর্শ দিব, প্রথমে গুগলের ব্লগার সাইট থেকে ফ্রি ডোমেইন ফ্রি হোস্টিং ফ্রি থিম দিয়ে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলুন। ফ্রি ওয়েবসাইট বানাতে এখানে ক্লিক করুন।ওয়েবসাইট বানানো হয়ে গেলে এবার ঠিক করুন কি রিলেটেড ওয়েবসাইট বানাতে চান। সেই অনুযায়ী ওয়েবসাইটটিকে ডিজাইন করুন। যেমন মনে করুন আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল রিলেটেড বানাবেন সে অনুযায়ী ওয়েবসাইটটিকে সাজান। ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে আপনার সাইটটিকে ধীরে ডেভেলপ করুন। তারপর আপনার সাইটটিকে এসইও করুন। বিভিন্ন স্থানে শেয়ার করুন আপনার ডোমেইন এড্রেসটি। নিয়মিত হালনাগাদ রাখবেন ওয়েবসাইটটিকে। মোটামুটি যখন আপনার ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ন হয়ে যাবে তখন আপনি গুগল ব্লগার থেকে ওয়েবসাইট বানিয়ে থাকেন তাহলে দেখবেন ব্লগারের একটি অপশন আছে আরনিং সেখান থেকে আপনার ওয়েবসাইটটিকে গুগল এডসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করুন। কিছু দিন পর গুগল থেকে আপনার সাইটটিকে এপ্রোভ করে দিলেই আপনার মন মতো এড বসিয়ে ইনকাম শুরু করে দিতে পারেন। শুধুমাত্র ওয়েবসাইট থেকে আয় নিয়ে আমি আলাদা আরেকটি আর্টিকেল লিখবো সেখানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনাদের দেখাবো কিভাবে একটি ওয়েবসাইট খুলে ইনকাম করতে পারেন।


ব্লগিং সাইট থেকে আয়,

আসলে ওয়েবসাইট এবং ব্লগ সাইটের মধ্যে তেমন কোনো বড় পার্থক্য নেই। তবে ওয়েবসাইটে ব্লগ সাইটের মতো নিয়মিত আর্টিকেল পোস্ট করা হয়না। ওয়েবসাইটে শুধু বিভিন্ন সময় নোটিশ বা বিভিন্ন ঘোষনা দেওয়া হয়ে থাকে। ওয়েবসাইটের সকল তথ্যই কোনো কোম্পানি সর্ম্পকিত হয়ে থাকে। ব্লগের ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত তথ্য দেওয়া থাকে। আপনি যদি ওয়েবসাইটের অংশটি পড়ে থাকেন তাহলে ব্লগ সাইটও একই নিয়ম।
কিন্তু ব্লগ সাইটের ক্ষেত্রে আপনাকে নিয়মিত পোস্ট করতে হবে। মোটমুটি ২০ টি পোস্ট করা হয়ে গেলে এবং আপনার ব্লগ সাইটে সবমিলিয়ে আনুমানিক ২০০০ বা ৩০০০ হাজার ভিজিটর আসে তাহলেই আপনি গুগলে এডসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ওয়েবসাইটের জন্য যেভাবে গুগল এডসেন্স পাবেন ব্লগের জন্যও একই পদ্ধতি।


ফ্রিল্যান্সিং করে আয়

অনলাইন আয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। প্রথমেই জেনে নিই ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং এর বাংলা অর্থ হচ্ছে মুক্ত পেশা। যেটা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়। এবং কাজের বিনিময়ে ইনকাম করা হয়ে থাকে। এই কাজের কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। শুধু মাত্র আপনার কম্পিউটারে অথবা মোবাইলে নেট কানেকশান থাকলেই আপনি যে কোনো সময় আপনার ক্লাইন্টকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে টাকা পেমেন্ট নিতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিং নির্দিষ্ট কোনো কাজও নয়। এটা অনেক গুলো কাজের সমন্বয়ে অথবা যেকোনো একটি কাজের উপরও হতে পারে। তবে হ্যা অবশ্যই আপনাকে যে কোনো নির্দিষ্ট একটি কাজের উপর দক্ষ হতে হবে। অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার বিষয়টি সবচেয়ে জনপ্রিয়। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ দেয় কয়েকটি ওয়েবসাইট। সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে দক্ষতা অনুযায়ী কাজের জন্য আবেদন করতে হয়। কাজদাতা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ করে ফ্রিল্যান্সারকে কাজ দেয়।
কয়েকটি ওয়েবাসাইটে কাজের দক্ষতার বিবরণ জানাতে হয়, যাতে ক্রেতা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এসব সাইটের মধ্যে ফাইভার ডটকম, আপওয়ার্ক ডটকম, ফ্রিল্যান্সার ডটকম ও ওয়ার্কএনহায়ার ডটকমে ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাওয়া যায়। ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায় এসব সাইট থেকে। মনে রাখতে হবে, কাজ শেষ করার পর কাজদাতার অনুমোদন পেলেই তবেই অর্থ ছাড় দেবেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কাজের মানের ওপর কাজদাতা রেটিং দিতে পারেন। গ্রাহকের পছন্দ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করে দিতে হয় ফ্রিল্যান্সারকে। বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ আনা যায়।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়


এক ডিলে দুই পাখি মারা বুঝেনতো। যদি বুঝেন তাহলে আরেকটি বুঝে নিন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো কোনো কোম্পানির পন্য বিক্রির ব্যবস্থা করে দেওয়া। যেটাকে অফলাইনে বলা হয় বিক্রয় প্রতিনিধি। যেহেতু অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি সকলের কাছে যাওয়া সম্ভব সেহেতু কোনো ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট অথবা ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক যে কোনো মাধ্যমে কোম্পানির প্রোডাক্টের লিঙ্ক প্রমোট করে সেই লিঙ্ক থেকে লিড নেওয়া। মানে আপনার প্রমোটকৃত লিঙ্কে ক্লিক করে যদি কেউ সেই পন্যটি অর্ডার করে তাহলে আপনি সেখান থেকে একটা কমিশন পাবেন। আর এই লিঙ্ক প্রমোট করে ইনকাম করাকেই বলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। তাহলে আমি কেনো বললাম এক ডিলে দুই পাখি মারা, কারন আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য যে মাধ্যমটি ব্যবহার করবেন, যেমন ব্লগ বা ওয়েবসাইট অথবা ইউটিউব চ্যানেল। এই সব গুলো মাধ্যমে আপনি সরাসরি যেমন আয় করবেন মানে গুগল এডসেন্সের মাধমে, ঠিক একই সাইট থেকে কেউ ভিজিট করে যদি কোনো কিছু অর্ডার করে তাহলেও আপনি কমিশন পাবেন।

  • গ্রাফিকস ডিজাইন

অনলাইনে ঘরে বসে আয়ের ক্ষেত্রে গ্রাফিকস ডিজাইনের মাধ্যমেও আয় করাও হতে পারে ভালো উপায়। যাঁরা এই কাজে দক্ষ, তাঁরা বিভিন্ন ডিজাইন অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে দিয়ে রাখেন। তাদের ডিজাইন কারো পছন্দ হলে ক্রেতা সেটি ক্রয় করার জন্য অফার করে এবং ডিজাইনার টাকার বিনিময়ে এটিকে বিক্রি করে থাকেন। এই বিক্রি থেকে তাঁদের আয় আসে। তাঁদের তৈরি একটি পণ্য অনেকবার বিক্রি হয়, অর্থাৎ একটি ভালো নকশা থেকেই দীর্ঘদিন পর্যন্ত আয় হতে থাকে। অনলাইনে এ ধরনের অনেক ওয়েবসাইটে গ্রাফিকসের কাজ বিক্রি করা যায়। এ ছাড়া অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতেও গ্রাফিকস ডিজাইনারদের অনেক চাহিদা রয়েছে।


·  অনুবাদ করে আয়

আন্তজার্তিক যোগাযোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের মধ্যে শিখার আগ্রহও দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইংরেজির পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষা ভালোভাবে জানা থাকলে সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন। বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে বিভিন্ন ডকুমেন্ট অনুবাদ করে আয় করতে পারেন। যাঁদের স্প্যানিশ,মালাই, তামিল, নেপালি, হিন্দি, ফ্রেঞ্চ, আরবি, জার্মানসহ অন্যান্য ভাষা জানা আছে এবং এগুলো থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ বা ইংরেজি থেকে এসব ভাষায় অনুবাদ করতে পারলে ভালো আয় করতে পারবেন। অনেক সময় কাজদাতারা নিজে সময়ের অভাবে অনুবাদের কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করিয়ে নেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে এ ধরনের হাজারো কাজ পাবেন যারা শুধু ভাষা অনুবাদের কাজ করে থাকে।


  • ওয়েব ডেভেলপার হয়ে আয় করুন।

এখনকার অনলাইনের কাজের ক্ষেত্রে ওয়েব ডিজাইনের চাহিদা ব্যাপক। আর আপনি যদি কোডিং জানেন তাহলেতো কথাই নেই। কোনো প্রজেক্টে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজে আয় করা যায়। সব ব্যবসায়ী প্রযুক্তিপ্রেমী নন। নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরিতে তাঁদের ওয়েব ডিজাইনারের দরকার পড়ে। যাঁরা ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে চান নিজেদের ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকেই ছোট ব্যবসা দাঁড় করাতে পারেন। ওয়েবসাইট তৈরিতে এখন কোডিং আর ওয়েব ডিজাইন দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনা ও হালনাগাদের জন্যও ওয়েব ডিজাইনারকে দরকার পড়ে। ফলে ডিজাইনারকে বসে থাকতে হয় না। ক্লায়েন্ট ও কাজের ওপর ভিত্তি করে ওয়েব ডিজাইনারের আয় বাড়তে থাকে। তাছাড়াও অনলাইনে এমন অনেক সাইট আছে যেগুলোর মাধ্যমে ওয়েবসাইট বানাতে কোনো প্রকার কোডিং করা শিখা লাগেনা। যেমন ওয়ার্ডপ্রেস। ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে আপনি অনেক ভালো মানের প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরী করতে পারবেন।


  • কনটেন্ট রাইটিং

আপনি যে আর্টিকেল এখন পড়তেছেন এটিও একটি কনটেন্ট। আপনিও ইচ্ছা করলে এরকম আর্টিকেল লিখে আয় করতে পারেন।
কনটেন্ট রাইটিং,  যাঁরা লেখালেখিতে ভালো এবং একাধিক ভাষায় সাবলীল লিখতে পারেন, তাঁদের কাজের জন্য বসে থাকতে হয় না। এই যেমন দেখুন আপনি যে এই আর্টিকেলটি পড়ছেন সেটিকেও কিন্তু একটি কনটেন্ট বলে। এরকম আপনি যদি লিখতে পারেন তাহলে আপনি অবশ্যই অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে কাজ করে বা লিখে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আর্টিকেল লেখার মানের ওপর ভিত্তি করে আয় আসে। কাজদাতা নির্দিষ্ট নীতি মেনে লেখার জন্য বলতে পারেন। নির্দিষ্ট বিষয় বা নিশ ধরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারলে আয়ের ধারা বেড়ে যায়


  • ইউটিউব থেকে আয়

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় আয়ের মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউবিং। যাঁরা ব্লগ লিখে আয় করতে স্বাচ্ছন্দ নন, তাঁরা ক্যামেরার সাহায্য নিয়ে ভিডিও থেকে আয় করতে পারেন। জন্য অবশ্য সৃজনশীল আর ভালো সম্পাদনা জানতে হবে। নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে ভিডিও আপলোড করে সেখান থেকে আয় করতে পারেন। 


তবে আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটান তাহলে একটি ডিলে দুই পাখি মারতে পারেন। কিভাবে? হ্যা এটাই বলছি, আপনি একটু খেয়াল করে দেখবেন অনেক ব্লগ সাইটের আর্টিকেলের মধ্যে ভিডিও এড করা বা এম্বেড করা থাকে। এটাই হলো মূল টেকনিক। যারা ইউটিউবের জন্য ভিডিও বানানোর জন্য পুরো কথাগুলো ব্লগ সাইটে প্রকাশ করে থাকে। ব্লগে প্রকাশ করার পর হুবহু সেই কথা গুলো ক্যমেরার সামনে বলার চেস্টা করে। এতে করে যারা পড়তে পারেনা তারা ভিডিও মাধ্যমে শিখে অথবা যারা ভিডিও দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনা তারা আর্টিকেল থেকে শিখে নেয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আপনিও এভাবেই শুরু করতে পারেন। আপনার চ্যানেল কোন ক্যাটাগরির এবং তাতে কোন ধরনের ভিডিও রাখবেন, তা আগেই ঠিক করে রাখুন। যে বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি, সেই বিষয়ে ভিডিও না রাখলে মানুষ তা দেখবে না। ভিডিও না দেখলে আয় হবে না। বিষয়টি অনেকটাই ব্লগের মতো। তবে ক্ষেত্রে কনটেন্ট হচ্ছে ভিডিও। চ্যানেলের সাবসক্রাইবার ভিডিও দেখার সময় বাড়লে আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। প্রতি হাজার ভিউয়ের হিসাবে গুগল থেকে অর্থ পাবেন


  • পিটিসি সাইট থেকে আয়

পেইড টু ক্লিক (পিটিসি) হ'ল একটি অনলাইন ব্যবসায়িক মডেল যা লক্ষ্য করে লোকদের কাছ থেকে অনলাইন ট্র্যাফিক আকর্ষণ করে থাকে। অনেক ওয়েবসাইট আছে, যাতে রাখা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে আপনাকে অর্থ দেওয়া হবে। ধরনের সাইটকে পিটিসি সাইট বলে। প্রকল্প শুরুর আগে নিবন্ধন করতে হয়। তবে মনে রাখতে হবে পিটিসি সাইটগুলো বেশির ভাগ ভুয়া হয়। তাই কাজের আগে নিশ্চিত হতে হবে সেটি প্রকৃত সাইট কি না। অনেক সময় বন্ধুতে রেফারেন্স দিয়ে আয় করতে পারেন
উপরে উল্লেখিত সকল আয়ের মাধ্যম থেকে কিভাবে পেমেন্ট নিবেন? অনলাইনে যেমন হাজারো আয়ের মাধ্যম আছে তেমনি আয়ের টাকা পেমেন্ট নেওয়ারও অনেক পদ্ধতি রয়েছে। যেমন কেউ কেউ অনলাইন হতে সহজে আয় করে আয়ের টাকা বিকাশে পেমেন্ট নেয়। কেউ পেমেন্ট নেয় ব্যাংকের মাধ্যমে কেউবা আবার ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে।
আপনাদের সুবিধার জন্য জনপ্রিয় কিছু কিওয়ার্ড এড করে দিলাম। চাইলে এই কিওয়ার্ডগুলো দিয়েও সার্চ করে বিভিন্ন সাইট থেকে কন্টেন্ট পড়ে আসতে পাবেন।

  • ওয়েবসাইট থেকে আয়অনলাইন পত্রিকা থেকে আয়
  • অনলাইনে আয় ২০২০
  • অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট 2019
  • অনলাইন থেকে আয় করার উপায়
  • ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
  • মোবাইলে অনলাইনে আয় ২০২০
  • টাকা আয় করার
  • মোবাইলে অনলাইনে আয় ২০২০
  • অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট
  • অনলাইনে আয়ের সহজ পদ্ধতি
  • ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয়
  • অনলাইন ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২০
  • অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট ২০২০
  • এড দেখে টাকা ইনকাম বিকাশে পেমেন্ট
  • মোবাইল দিয়ে টাকা আয় বিকাশে পেমেন্ট
  • অনলাইন ইনকাম সাইট ২০২০
  • অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট 2019
  • অনলাইনে আয় ২০২০
  • ফ্রি টাকা ইনকাম
  • অনলাইনে টাকা আয় রকেটে পেমেন্ট
  • অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট ২০২০



লেখক : মামুন সরকার

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো