ব্লগ পোস্ট করার সঠিক নিয়মাবলী।

শিরোনাম দেখেই বুঝতে পারছেন এই আর্টিকেলে কি নিয়ে আলোচনা করবো। আপনি যদি একজন ব্লগার হয়ে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই।

একজন নতুন ব্লগারের বা নতুন লেখকদের জন্য নতুন ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম কানুন জানা না থাকলে কখনোই ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেননা। একজন নতুন ব্লগারের অবশ্যই ব্লগে পোস্ট করার সঠিক  নিয়মাবলী, এবং এসইও সমৃদ্ধ পোস্ট করার পদ্ধতি অবশ্যই জানা উচিত।

যেহেতু ব্লগ পোস্ট করার সঠিক নিয়ম জানতে এসেছেন এজন্য ব্লগ কি? ব্লগ কাকে বলে এই বিষয়ে কিছু লিখতে হবেনা। 

তারপরও হালকা একটু ধারনা দেই। ব্লগ হলো একটি ওয়েবসাইটের মতো। দেখতে প্রায় একই রকম। ডোমেইন, হোস্টিং, থিম, সাইটের সিকিউরিটি সব কিছুই ব্লগ ও ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য। তারপরও ব্লগ ও ওয়েবসাইটের মধ্যে কিছু পার্থক্য হলো ব্লগসাইটে নিয়মিত বিভিন্ন আর্টিকেল পোস্ট করা হয়, নিয়মিত আপডেট করা হয়। ব্লগ সাইট মূলত কোনো একক ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। ব্লগ সাইটে ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য, গল্প, কাহিনী ইত্যাদি শেয়ার করা হয়।







অন্যদিকে ওয়েবসাইটে নিয়মিত পোস্ট করা হয়না। ওয়েবসাইটে মূলত গুরুত্বপূর্ন বিজ্ঞপ্তি, কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পাবলিশ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়না। উল্লেখিত কিছু পার্থক্য ছাড়া ব্লগ ও ওয়েবসাইটের কাজ প্রায় একই রকম।

যাইহোক আশা করি মোটামুটি ধারনা পেয়েছেন। এবার আসি মুল প্রসঙ্গে, 

ব্লগে seo friendly পোস্ট বা আর্টিকেল,

 

ব্লগ পোস্ট করার সঠিক নিয়ম, ব্লগে পোস্ট লেখার নিয়ম সহ কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের শেয়ার করবো।




মোটামুটি ব্লগসাইট সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে তারা যদি আমাকে প্রশ্ন করে ব্লগে কিভাবে পোস্ট করবো, তাহলে আমি মুখের উপর বলে দিব এভাবে।

  •  প্রথমে www.blogger.com সাইট থেকে আপনার ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
  •  ব্লগারে লগইন করার পর  হোম পেজ থেকে New post এ ক্লিক করুন।
  • সবার ওপরের ছোট বক্স যেখানে title লেখাটি আছে সেই ঘরে  আপনার পোস্টের title বা শিরোনাম লিখুন।
  • এখন নিচের পুরো খালি অংশে আপনার কাঙ্খিত পোস্ট ডেসক্রিপশন লিখুন।
  • একেবারে উপরের  link এর পাশে ছবির আইকনে ক্লিক করে একটি ছবি আপলোড করুন।
  •  Label এখানে কোন বিষয়ে পোস্ট করছেন সেটির উপর একটি tag দিন যেমন খেলার হলে খেলা বা স্পোর্টস, ইউটিউব হলে ইউটিউবিং, অথবা ফেসবুক সম্পর্কে হলে ফেসবুকিং ইত্যাদি ট্যাগ দিন।
  • permalink অংশে আপনার পোস্ট সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত একটি  url তৈরি করুন। যেটিকে লিঙ্ক হিসেবে আপনার ভিজিটররা সুন্দরভাবে দেখতে পারবে।
  • search description বক্সে  পোস্টের বিষয়ে ১০০-১৫০ ওয়ার্ডের সংক্ষেপে উক্ত ব্লগ পোস্ট সম্পর্কে কিছু লিখুন। যেটা আপনার ভিজিটররা যখন সার্চ করবে তখন তাদের সামনে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রদর্শন করবে।
  • উপরের সবকিছু সুন্দরভাবে হয়ে গেলে এবার আপনার পোস্টটি publish করে দিন। ব্যস আপনার কাজ শেষ!!! 



এইতো গেলে সংক্ষিপ্ত উপায়ে পোস্ট করার নিয়ম। এবার চলুন আরো বিস্তারিত জেনে নিই।

ব্লগ পোস্টের শিরোনাম বা টাইটেল ঠিক করা।

সঠিক ব্লগ পোস্ট করার প্রথম পদ্ধতি হলো ব্লগ পোস্টের শিরোনাম বা বিষয় ঠিক করে নেওয়া।ব্লগের শিরোনাম লেখার নিয়ম আপনাকে সুন্দর ভাবে জানতে হবে।  যে বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লিখবেন সেটির বিষয় আগে ঠিক করে নিন। গুগল থেকে সার্চ করে দেখে নিন কোন কিওয়ার্ডটি সবচেয়ে বেশি গুগলের সার্চ রেজাল্টে আসে কোনটি আসেনা। আপনি যত সুন্দর ও আকর্ষনীয় টাইটেল দিবেন ততই আপনার ভিজিটর সহজ ভাবে পোস্টের বিষয় বস্তু বুঝতে পারবে। টাইটেল যত সংক্ষিপ্ত দেওয়া যায় ততই ভালো। অল্প কথায় ব্লগ পোস্টের সারমর্ম ও সারাংশ বুঝানোর চেস্টা করুন। আপনার সুবিধার্থে একটি বিষয় জেনে রাখা ভালো গুগল থেকে যত ভিজিটর আসে তার প্রায় ৮০% ই আসে টাইটেল দেখে। টাইটেল পছন্দ না হলে ভিজিটর আপনার ব্লগ সাইটে আসতে কখনোই স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেনা।
ভালো টাইটেল ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন সাইটের সাহায্যে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে নিতে পারেন।

আপনি যদি গুগল ব্যবহারে মোটামুটি অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই আপনার জানার কথা, তারপরও আরেকটু আপনাদের বুঝিয়ে বলি; আপনি যখন গুগলে কোনো কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করেন , তখন গুগল থেকে অনেক গুলো ফলাফল আপনার সামনে প্রদর্শন করে, প্রদর্শনকৃত সকল ফলাফল আপনার সার্চকৃত কিওয়ার্ডের সাথে মিল থাকার কারনে গুগলের ডাটাবেজ থেকে ফলাফল গুলো আপনাকে দিয়ে থাকে। আপনাদের বুঝার সুবিধার্তে গুগলে সার্চকৃত কিছু কিওয়ার্ড দিয়ে উদাহরণ সহ বুঝানোর চেস্টা করবো। 

ব্লগ কন্টেন্ট আইডিয়া, ব্লগ একাউন্ট কিভাবে খুলবো, ব্লগ লিখে আয়, বাংলা লিখে আয়, ব্লগস্পট থেকে আয়, বাংলা ব্লগ সাইট, ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়, বাংলা সাইট থেকে আয়, শিরোনাম লেখার নিয়ম, ব্লগ সাইট, কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়, লেখালেখি ব্লগ, কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয়, বাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা আয়, গল্প লিখে টাকা আয়, ব্লগার ডট কম, ব্লগিং কিভাবে শিখব, ব্লগ এর প্রকারভেদ, আমার ব্লগ, ব্লগ কন্টেন্ট আইডিয়া, ব্লগ একাউন্ট কিভাবে খুলবো, ব্লগ লিখে আয়, বাংলা লিখে আয়, ব্লগস্পট থেকে আয়, বাংলা ব্লগ সাইট, ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়, বাংলা সাইট থেকে আয়, শিরোনাম লেখার নিয়ম, ব্লগ সাইট, কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়, লেখালেখি ব্লগ, কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয়, বাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা আয়, গল্প লিখে টাকা আয়, ব্লগার ডট কম, ব্লগিং কিভাবে শিখব, ব্লগ এর প্রকারভেদ, আমার ব্লগ, ব্লগ লেখার নিয়ম,ব্লগ তৈরি করে আয়, ব্লগ একাউন্ট কিভাবে খুলবো, কিভাবে ব্লগ সাইট বানাব, কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়, ব্লগ কন্টেন্ট আইডিয়া, ব্লগ লিখে আয়, ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়,

উপরের সকল কিওয়ার্ডগুলো আমি গুগল থেকে সংগ্রহ করেছি। যেসব কিওয়ার্ডগুলো মানুষ সার্চ করে থাকে। এখন এই সবগুলো কিওয়ার্ডের মধ্যে থেকে যে কোনো একটি কিওয়ার্ড শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার করে বাকি কি ওয়ার্ডগুলো উক্ত পোস্টের বিভিন্ন পজিশনে বসানোর চেস্টা করবো।





আবার আপনি লক্ষ করে দেখবেন আপনার সার্চকৃত পেজের একেবারে নিচের দিকে কয়েকটি কিওয়ার্ড প্রদর্শন করে। উক্ত প্রদর্শনকৃত কিওয়ার্ডগুলোও গুগলে প্রায়ই যারা সার্চ করেন সেটিই গুগল থেকে সাজেস্ট করে থাকে। এখন আপনার ব্লগের শিরোনাম ঠিক করার জন্য এখান থেকেও আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো একটি কিওয়ার্ড নিতে পারেন।
যে কিওয়ার্ডটি সার্চে আসেনা সেটি না লিখে যে কিওয়ার্ডটি গুগল থেকে রিকমেন্ড করে সেই কিওয়ার্ডটিকে কপি করে তার সাথে আরা কিছু শব্দ যোগ করে পোস্টের শিরোনাম ঠিক করুন।





ব্লগের ডেসক্রিপশন বা বিস্তারিত লেখা

ব্লগের শিরোনাম ঠিক করার পর এবার আপনার পালা ব্লগের বিস্তারিত লেখা। আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখবেন তার উপর বিস্তারিত লিখতে হবে। যেমন আপনি খেয়াল করে দেখবেন, এখন যে আমার লেখাটি পড়তেছেন সেটির মূল বিষয় হলো “ব্লগ পোস্ট করার সঠিক নিয়ম” উক্ত শিরোনামের উপর ভিত্তি করে পুরো আর্টিকেলটি লিখেছি। উক্ত আর্টিকেলে আমি দেখিয়েছি কিভাবে ব্লগের শিরোনাম ঠিক করবেন, এখন যে লেখাটি পড়তেছেন ডেসক্রিপশন অংশে সেটিও ডেসক্রিপশন কিভাবে লিখতে হয় তা বুঝাতে চেয়েছি। মনে করেন আপনার বিষয় হলো  কিভাবে ফ্রিতে ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরী করবেন অথবা ব্লগ একাউন্ট কিভাবে খুলবো, এখন ব্লগ সাইট তৈরী করতে যা যা প্রয়োজন বা যা কিছু করতে হবে সবগুলো বুঝিয়ে বিস্তারিত লেখুন। আপনি চাইলে একসাথে সকল ডেসক্রিপশন লিখতে পারেন। তবে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য, পাঠকের বুঝার সুবিধার্ধে আলাদা আলাদা শিরোনাম দিয়ে প্রত্যেকটি বিষয় লিখতে পারেন। ব্লগ এসইও বিষয়ের উপর একটি শিরোনাম দিয়ে বিস্তারিত লিখুন। ইমেজ এসইও নিয়ে একটি শিরোনাম দিয়ে এখানেও আরো বিস্তারিত লিখুন। এভাবে প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ন অংশকে শিরোনাম আকারে উপস্থাপন করতে পারেন।

ব্লগের ডেসক্রিপশন হচেছ মূল বিষয়। এই অংশে আপনাকে সকল বিষয় সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে হবে। যাতে করে আপনার লেখাটি পড়ে কারো উপকারে আসে বা কাজে আসে। এক কথায় এখানে মুল বিষয়ের সকল জ্ঞান আপনাকে শেয়ার করতে হবে।
ডেসক্রিপশন যত সুন্দর ভাবে লিখবেন ততই আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। আপনার লেখাটি পড়ে যদি কারো উপকারে আসে তাহলে পরবর্তীতে আবারো আপনার ব্লগের আর্টিকেল পড়তে আসবে। এতে করে আপনার এবং আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে।
ডেসক্রিপশন অংশে অনেক গুলো বিষয়ের উপর কাজ করতে হবে। ব্লগ এসইও, ইমেজ এসইও করা।





বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তর সাইট থেকে সাহায্যে নেওয়া

বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তর সাইট থেকে আপনার কাঙ্খিত বিষয় রিলেটেড আর্টিকেল লেখার চেস্টা করুন। আপনি যদি সেই প্রশ্ন অনুযায়ী আপনার ব্লগের পোস্টটি লিখেন পরবর্তীতে এই পোস্টের লিঙ্ক শেয়ার করে একই সাথে আপনার সাইটের ভিজিটর ও ব্যাকলিঙ্ক বাড়াতে পারবেন। বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তর সাইটের মধ্যে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো কোয়ারা এখানে হাজারো প্রশ্ন পাবেন যেগুলো আপনার ব্লগ সাইটের আর্টিকেল লিখে প্রকাশ করতে পারেন। এছাড়াও বাংলাদেশী অনেক সাইট রয়েছে যেমন, বিসয় আনসার, প্রশ্ন-উত্তর, ইত্যাদি।



আর্টিকেল এসইও করা (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেন করা)

ব্লগের শিরোনাম যেভাবে ঠিক করবেন ঠিক একই ভাবে উক্ত শিরোনামের উপর সঠিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ব্লগ লিখতে হবে।
ব্লগ পোস্টের বিষয় বস্তু ঠিক করার পর বাছাইকৃত কিওয়ার্ডটি দিয়ে গুগলে সার্চ করুন। সার্চ রেজাল্টে যতগুলো পেজ আসবে সব গুলো পেজ আলাদা পেজে খুলে একটু একটু করে ধারনা নিন। ব্লগ কন্টেন্ট আইডিয়া জানার জন্য সকল ব্লগারের পেজ থেকে কিছু কিছু ধারনা। সকল প্রকার পেজে কোনো না কোনো ব্লগার তাদের অভিজ্ঞতা লিখেছেন।  সকল পেজ থেকে ব্লগ কন্টেন্টের আইডিয়া বা ধারনা নিয়ে এবার আপনার আর্টিকেলে সেগুলোকে বিভিন্ন পজিশনে বসানোর চেস্টা করুন। মনে রাখবেন এসইও সমৃদ্ধ আর্টিকেল লেখার জন্য সবচেয়ে বেশি নজর দিবেন মুল কিওয়ার্ডের দিকে। মুল কিওয়ার্ডটি বার বার বিভিন্ন পজিশনে লেখার চেস্টা করুন। যে কিওয়ার্ডটি গুগলে বেশি মানুষ সার্চ করে থাকে। যত বেশি প্রাসঙ্গিক স্থানে কিওয়ার্ড বসাবেন ততই আপনার আর্টিকেলটি গুগলে দ্রুত রেঙ্ক করবে। তবে যত্রতত্র মুল কিওয়ার্ড বসাবেন না যাতে করে পাঠক বিরক্ত বোধ না করেন।



ছবি বা ইমেজ এসইও করা

ব্লগ পোস্টের গুরুত্বপূর্ন একটি কাজ হচ্ছে ছবি বা ইমেজকে এসইও করা। একটি ব্লগ পোস্ট গুগলে রেঙ্ক করার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। ব্লগের শুরুতে কিভাবে শিরোনাম নাম লিখবেন এই নিয়ে ইতিমধ্যে আমি বলেছি। এখন আপনার কাজ হলো শিরোনাম ঠিক করার জন্য যেভাবে গুগল থেকে কিওয়ার্ড পছন্দ করেছেন ঠিক একই ভাবে গুগলে সার্চ করে যতগুলো কিওয়ার্ড গুগল আপনাকে প্রদর্শন করবে সব গুলো কিওয়ার্ড কপি করে নোট পেড অথবা মাইক্রোসফট অফিসের যে কোনো পেজে সেভ করুন। সেভ করার পর প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা কিওয়ার্ডের পর কমা(,) ব্যবহার করুন এতে করে প্রত্যেকটি কিওয়ার্ড আলাদা হয়ে যাবে। কিওয়ার্ড গুলো সেভ করার পর আপনি যে ইমেজটি ব্লগে ব্যবহার করবেন সেটির মধ্যে কিওয়ার্ডগুলো বসিয়ে দিন। প্রথমে ছবির উপর মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে তারপর প্রপার্টিজে ক্লিক করুন। নিচের ছবির মতো একটি এরকম একটি অপশন আসবে, এখান থেকে ডিটেইলস এ ক্লিক করে ট্যাগে ক্লিক করুন, ক্লিক করার পর খালি ঘরে কপিকৃত সকল কিওয়ার্ডগুলো বসিয়ে দিয়ে সেভ করুন। সেভ করার পর উক্ত ছবিটিকে এবার ব্লগের আর্টিকেলে আপলোড করুন। ব্যস হয়ে গেলে এসইও সমৃদ্ধ ইমেজ।





ইন্টারনাল লিঙ্ক ও এক্সটার্নাল লিঙ্ক বসান।

আপনার ব্লগ সাইটের বিভিন্ন পোস্টকে আর্টিকেলের বিভিন্ন স্থানে বসানোর চেস্টা করুন। ইতিমধ্যে পোস্ট কৃত যে কোনো প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলের লিঙ্ক বসান , এতে করে আপনার পাঠকেরা লিঙ্কে ক্লিক করে আর্টিকেলটি পড়বে। লেখার মধ্যে সামঞ্জ্যকে রেখে লিঙ্কগুলো বসাবেন। একটু উদাহরন দিয়ে বলি, মনে করুন আমি একটি লেখা লিখতেছি , সেটি হলো কিভাবে ব্লগ পোস্ট করবেন তার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে সব গুলো সঠিক পদ্ধতি বলার পর শেষে আমার ব্লগে ইতিমধ্যে পোস্টকৃত একটি আর্টিকেল হলো কিভাবে ব্লগ সাইট এসইও করবেন, উক্ত পোস্টের লিঙ্কটি আমি এখানে বসিয়ে দিলাম , এতে করে প্রাসঙ্গিক একটি লিঙ্ক বসানো হয়ে গেলো। কারন যখন একজন নতুন ব্লগার এগুলো পড়বে তখন সে অবশ্যই ব্লগ পোস্ট করার সঠিক নিয়ম এই আর্টিকেলটি পড়ার পর কিভাবে ব্লগ সাইট এসইও করবেন সেই লেখাটিও পড়ার আগ্রহ করবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। বুঝতে সমস্যা হলেও কমেন্ট করে জানাতে পারেন। উপরের পদ্ধতিটি হলো ইন্টারনাল লিঙ্ক বসানোর পদ্ধতি বা অভ্যন্তরীন লিঙ্ক যেটা শুধু আপনার ব্লগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। যে লিঙ্কেই ক্লিক করুক না কেনো গুরে ফিরে আপনার ব্লগ সাইটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এবার আসি এক্সটান্টাল লিঙ্ক প্রসঙ্গে, লিঙ্ক বসানোর পদ্ধতি সবই ইন্টারনাল লিঙ্ক পদ্ধতির মতোই , তবে এক্সটার্নাল লিঙ্ক হলো আপনার ব্লগের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লিঙ্ক, ভিজিটরদের উপকারে আসতে পারে এমন লিঙ্ক বসানো। যাতে কেউ ক্লিক করে আপনার সাইট থেকে অন্যান্য সাইটে চলে যাবে। যেটা আপনি আপনার পাঠকদের রেফারেন্স আকারে দিতে পারেন। এক্সটার্নাল লিঙ্কের মধ্যে আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলের লিঙ্ক, ফেসবুক পেজের লিঙ্ক, টুইটার, ইন্সটগ্রাম, পিন্টারেস্টের লিঙ্ক বসিয়ে একই সাথে আপনার অন্যন্যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোকেও জনপ্রিয় করতে পারেন।
উল্লেখিত দুই ধরনের লিঙ্ক গুগল রেঙ্ক করানোর জন্য খুবই উপকারী। ইন্টারনাল লিঙ্ক ও এক্সটারনাল লিঙ্ক গুগল স্কলিং করার সময় গুরুত্ব সহকারে গুগল স্কলিং করে যে কোনো সাইটকে সহজে রেঙ্ক করে দেয়।



ব্লগ পোস্টের লিঙ্ক বা ব্লগার পারমালিঙ্ক (Permalink) কাস্টমাইজ করা





পারমালিংকে লিঙ্কও বলা চলে। পারমালিঙ্ক দুই ধরনের, একটি অটোজেনারেটেড পারমালিঙ্ক, অন্যটি কাস্টম পারমালিঙ্ক। অটো জেনারেটেড লিংকে পছন্দমতো ছোট ও আকর্ষনীয় করতে প্রয়োজন কাস্টমাইজ করা , কাস্টমাইজ করে নতুন লিঙ্ক বানানোকেই বলে কাস্টম পারমালিঙ্ক।

উপরের দুটি ছবিতে লক্ষ করুন প্রথমটি হলো পোস্টের লিঙ্ক দ্বিতীয়টি হলো পারমালিঙ্ক এডিট করার অপশন। দ্বিতীয় ছবিতে পারমালিঙ্ক লেখাতে ক্লিক করে কাস্টমাইজ করে তারপর ব্লগে পোস্ট করুন। ব্লগার পারমালিঙ্ক কাস্টমাইজ করার মুল কারন হলো লিঙ্ককে সুন্দর করা। আপনি খেয়াল করে দেখবেন উপরের প্রথম ছবির লিঙ্কটি দেখতে তেমন সুন্দর ও আকর্ষনীয় নয়। এই লিঙ্কটিকে সংক্ষিপ্ত করে সুন্দর ভাবে কাস্টমাইজ করলে কেউ যখন গুগলে সার্চ করলে লিঙ্কটি দেখতে অনেক সুন্দর লাগবে।




লেভেল, সার্চ ডেসক্রিপশন, অপশন, কাস্টম রোবট,লোকেশন দিন।

লেভেল হচ্ছে আপনি কি বিষয়ের উপর পোস্ট করবেন তার একটি পরিচিতি দেওয়া। অথবা ট্যাগও বলতে পারেন। পোস্টে লেভেল দেওয়ার মূল কারন হলো নির্দিষ্ট একই ক্যাটাগরির পোস্টকে একসাথে রাখা। আপনি যদি ব্লগের উপর ইতিমধ্যে ৫ টি বা ১০ টি পোস্ট করে থাকেন তাহলে নতুন পোস্টটিতে যদি একই লেভেল ব্যবহার করেন তাহলে সব গুলো একই সাথে সিরিয়াল অনুযায়ী আপনি বা আপনার ভিজিটররা দেখতে পাবেন।

সার্চ ডেসক্রিপশন Search description হলো আপনার কাঙ্খিত পোস্টকৃত ব্লগের গুরুত্বপূর্ন কিছু বিষয় উল্লেখ করা, এতে করে যখন কেউ গুগলে সার্চ করে আপনার পোস্টটিকে দেখতে তখন তাদের সামনে সার্চ ডেসক্রিপশনে দেওয়া লেখা গুলোই গুগল প্রদর্শন করবে।

অপশন এই অংশে আপনার ব্লগ পোস্টটি যারা পড়বে তাদের মতামত দেওয়ার জন্য যদি আপনি অনুমতি দিতে চান তাহলে  Allow করে দিন। আপনি মনে করেন আপনার পোস্টে কেউ মতামত দিতে পারবেনা তাহলে Do not allow; show existing,/ Do not allow; hide existing এ সিলেক্ট করে দিতে পারেন।

পারমালিঙ্ক (Permalink) নিয়ে উক্ত পোস্টে ইতিমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে

কাস্টম রোবট ট্যাগ (Custom robot tags) এই অংশে ডিফল্ট ভাবে যেটি সেটিং করা থাকবে সেটিকে কোনো পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আপনি যদি মনে করেন গুগলে আপনার পোস্টটি প্রদর্শন না করুক তাহলে সেখান আপনার ইচ্ছামতো সেটিং করে নিতে পারেন।

লোকেশন এই অংশে আপনি যেখান থেকে লেখাটি পাবলিশ করেছেন সেটির ঠিকানা ঠিক করে দিতে পারেন। অথবা আপনার পোস্টটি যদি কোনো দোকান সম্পর্কিত হয়ে থাকে তাহলে সেই দোকানের ঠিকানা দিতে পারেন।




উপরের যে ছবিটি দেখতেছেন, উক্ত ছবির প্রত্যেকটি টুলবার সুন্দর ভাবে আপনার লিখিত আর্টিকেল ব্যবহার করতে হবে। যেমন,


  • BOLD লেখাকে আলাদা ভাবে বুঝানোর জন্য বোল্ড ব্যবহার করতে পারেন। বোল্ড ব্যবহার করলে সাধারণ লেখার চেয়ে বোল্ডকৃত লেখাটি দেখতে আলাদা মনে হবে।
  • Italic লেখাকে বাকা করতে ইটালিক ব্যবহার করতে পারেন।
  • Underline  লেখার নিচে দাগ দেওয়ার জন্য আন্ডারলাইন ব্যবহার করতে পারেন।
  • Strikethrough আলাদা  লেখার সময় কোনো ভুল হলে অথবা পূর্বে এই লেখাটি সঠিক ছিলো এখন পরিবর্তন হয়েছে বুঝাতে ট্রিকথ্রো ব্যবহার করতে পারেন। মানে যেটি লিখে ফেলেছেন সেটিকে না মুছে এর মাধ্যমে মাঝ খানে কেটে দিন।
  • Text color আপনার লেখাটিকে যে কোনো কালার ব্যবহার করার জন্য এই টুলসটিকে ব্যবহার করতে পারেন।
  • link লেখার যে কোনো অংশে লিঙ্ক বসানোর জন্য এই টুলসটি ব্যবহার করতে পারেন।
  • Insert  image এখানে ক্লিক করে পোস্টে যে কোনো ছবি এড করতে পারেন।
  • Numbered list যে কোনো লেখাকে কয়েকটি অংশে ভাগ করার জন্য, মানে সিরিয়াল দেওয়ার জন্য এটিকে ব্যবহার করতে পারেন।
  • Bullet list এই অংশে নাম্বারের পরিবর্তে . ডটের ব্যবহার করতে পারেন।
  • Quot লেখার কোনো অংশ গুরুত্বপূর্ন বুঝাতে এই টুলসটিকে ব্যবহার করতে পারেন।
  • align lift/right/ center যে কোনো লেখাকে ডান দিকে অথবা বামদিকে অথবা মাঝ বরাবর রাখতে এই টুলসটিকে ব্যবহার করতে পারেন।
  •  Spell checker এটিও একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ। লেখাতে বা টাইপিংয়ে কোনো প্রকার ভূল হয়ে থাকলে লেখার নিচে লাল চিহ্ন দেখাবে। এই টুলস ব্যবহার করে লেখাকে সঠিক করে নিতে পারেন।
  • Remove formatting এর মাধ্যমে কোনো লেখার মধ্যে যদি লিঙ্ক বা কালার থাকে তাহলে সেটি ডিফল্ট হয়ে যাবে। 
  • undo/redo এর মাধ্যমে ইতি মধ্যে লিখিত কোনো অংশ যদি মুছে যায় সেটিকে পূর্বের অবস্থায় নিয়ে আসতে পারবেন।
  • Schedule এটির ব্যবহার হলো , আপনি যে পোস্টটি ইতিমধ্যে লিখে সম্পূর্ন করেছেন কিন্তু সেটিকে এখনই পাবলিশ করতে চাচ্ছেন না তাহলে এর মাধ্যমে একটি সময় ঠিক করে রাখুন , সময় মতো লেখাটি অটোমেটিক পাবলিশ হয়ে যাবে।
  • Save/ Draft এই অংশটি হলো আপনি যদি আপনার পোস্টটিকে সরাসরি পাবলিশ করতে না চান তাহলে ড্রাফট করে রেখে দিন। এটি মূলত আপনি যদি কোনো ব্লগ পোস্ট একদিনে শেষ করতে না পারেন, যেটা দুইদিন বা তিনদিন লাগতে পারে তাহলে ড্রাফট করে রাখুন। যখন সম্পূর্ন লেখা শেষ হবে তখন পাবলিশ করুন।
  • Preview এই অংশটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। আপনার পোস্টটিকে চূড়ান্ত পাবলিশ করার পূর্বে একটু দেখে নিন। পোস্ট করার পর দেখতে কেমন লাগে।
  • Publish উপরের সবকিছু সঠিক ভাবে হয়ে গেলে এই অংশে ক্লিক করে আপনার লেখাটিকে পাবলিশ করে দিন।


উপরের উল্লেখিত বিষয় ছাড়াও আরো কিছু  কাজ রয়েছে সেগুলোও সঠিকভাবে পালন করলে আপনার আর্টিকেলটি অবশ্যই সার্চ রেঙ্কিংয়ে সবার উপরে নিয়ে আসতে পারবেন।
যেমন সার্চ ডেসক্রিপশনের যায়গায় আপনার পোস্টের এসইও রিলেটেড বিভিন্ন কিওয়ার্ড বসাতে পারেন। লোকেশনের জায়গায় যেখান থেকে পোস্টটি করেছেন সেই স্থানের ঠিকানাটি দিতে পারেন। আজকের পোস্টে বেশি কিছু লিখতে চাইনা। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে আসছি শ্রীগ্রই। ধন্যবাদ।




লেখক : মামুন সরকার

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো