ডিজিটাল কি?


ডিজিটাল শব্দের বাংলা অর্থ করলে দাড়ায় অঙ্গুলিসংক্রান্ত বা সংখ্যাগত, আর এই ডিজিটাল শব্দটি গঠিত হয়েছে ইংরেজী ডিজিট থেকে। ডিজিট হচ্ছে নাউন আর ডিজিটাল হচ্ছে ভার্ব। অথ্যাৎ ডিজিট অর্থ সংখ্যা, ডিজিটাল অর্থ আঙ্গুলের সাহায্যে গগনা করা। শাব্দিক বিশ্লেষনে ডিজিটাল শব্দকে এরকম বুঝালেও বাস্তব ও প্রকৃত পক্ষের সাথে অর্থের অনেক ফারাক। যেমনটা কম্পিউটার শব্দের সাথেও তুলনা করা যায়। কম্পিউটার অর্থ গননাকারী যন্ত্র , কিন্তু বাস্তবিক অর্থে কি শুধু গননাই করি!! তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের শুরুতে যে উদ্দেশ্য তৈরী করা হয়েছিলো সময়ের পরিক্রমায় সেই উদ্দেশ্যর মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে বহুদুর। 
এক কথায় ডিজিটাল শব্দকে সহজভাবে নিলে এর অর্থ হলো সহজ, সঠিক, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। আর ডিজিটালের সহায়ক হচ্ছে ইন্টারনেট।

ফেসবুক অথবা ইউটিউবের কথাই ধরুন, তারা যে উদ্দেশ্য শুরু করেছিলো, এখন কি সেই উদ্দেশ্যর মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে? মোটেই নেই, তাদের উদ্দেশ্যর মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বহুদুর।
শাব্দিকভাবে ডিজিটালের অর্থ খুজলে তেমন একটা গুরুত্ব বহন করেনা। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে ডিজিটাল শব্দটি বর্তমান প্রযুক্তির যুগে মানুষের সাথে মিশে গেছে উতপোত ভাবে।
একেবারে সহজ ভাষায় বললে পিয়নের বদলে ইমেইলে চিঠি পাঠানো, মালয়েশিয়ার খবর বাংলাদেশে বসে দেখা, আমেরিকায় বসে বাংলাদেশে কথা বলা এগুলোই হলো ডিজিটালের উদাহরণ। সুতরাং যা কিছু অত্যাধুনিক তাই ডিজিটাল।


ডিজিটাল মার্কেটিং



ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কাকে বলে?


এবার আসা যাক মুল প্রসঙ্গে। ডিজিটাল মার্কেটিং কি? আর্টিকেলের শুরুতেই বলেছি ‍ডিজিটাল কি? ডিজিটালের শাব্দিক অর্থ বিবেচনা করলে বেশি আলোচনা করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তব অর্থে যদি আলোচনা করি তাহলেও লিখে শেষ করা যাবেনা।
যাইহোক, প্রসঙ্গটা হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং কি এর উত্তর জানা। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমরা যে মাধ্যম গুলো ব্যবহার করে থাকি, যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইন্সট্রগ্রাম, পিনটারেস্ট, ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট ইত্যাদি , উল্লেখিত সব গুলোই ডিজিটালের উপাদান। এগুলোকে ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন ইন্টারনেট ও কম্পিউটার আর ইন্টারনেট ও কম্পিউটার হলো ডিজিটালের মূল বিষয় বস্তু।

উপরে যতগুলো ডিজিটাল মাধ্যমের নাম উল্লেখ করেছি, সেগুলোর সঠিক ব্যবহার করে ইন্টারন্টের মাধ্যমে তথ্যপ্রযু্ক্তির আদান প্রদান, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো কাজ সম্পাদন করা, মানুষের চাহিদাকে ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌছে দেওয়াই হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। সহজ ভাষায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে মানুষের দৌড় গোড়ায় পণ্য বা সেবা পৌছে দেওয়াই হলো ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবস্থা।




একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝানোর চেস্টা করি, মনে করুন আপনি আছেন বাংলাদেশে, আমি আছি মালয়েশিয়ায়, এখন আপনি  মালয়েশিয়ায় এসে আমার কোম্পানিতে কাজ করতে চাচ্ছেন। আমি আপনাকে কাজ দেওয়ার পূর্বে আপনার সর্ম্পকে কিছু জানা দরকার, সেজন্য আপনাকে বললাম আপনার বায়োডাটা পাঠাতে, আমার কথা মতো আপনার বায়োডাটা প্রস্তুত করে ইমেইলের মাধ্যমে আমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন ‍মুহুর্তের মধ্যেই। আর এই দ্রুত যোগাযোগটিই একটি ডিজিটাল মাধ্যম।
আপনি যদি আমার কাছে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আপনার বায়োডাটাটি পাঠাতেন তাহলে হয়তো একমাসেও আমার কাছে এসে পৌছতো না। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজেই পেয়ে গেলাম আপনার সর্ম্পকে বিস্তারিত তথ্য। তদ্রুপ এই মেইলের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থায় হাজারো উপাদান রয়েছে যেগুলোর দ্বারা আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আরো একটি উদাহরণ দেওয়ার চেস্টা করি, মনে করুন আপনার একটি কোম্পানি আছে, এর কার্যক্রম সারা বাংলাদেশব্যাপী বিসৃত। কিন্তু আপনার কোম্পানি সর্ম্পকে মানুষের তেমন একটা ধারনা নেই। এখন আপনার কোম্পানির সর্ম্পকে এবং আপনার কোম্পানির প্রোডাক্ট সর্ম্পকে মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন প্রচার ও প্রচারনা। আর এই প্রচার ও প্রচারনার কাজটি আপনি ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌছে দিলেন, এটিকেই বলে ডিজিটাল মার্কেটিং।
আপনি যদি এনালগ পদ্ধতিতে মার্কেটিং করতেন তাহলে আপনার লাগতো কয়েক হাজার কর্মী যাদের কাজ হতো মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আপনার কোম্পানি সর্ম্পকে বলত। আপনার প্রোডাক্ট সর্ম্পকে বিস্তারিত বলতে হতো। তাদের এই কাজটিই আপনি ঘরে বসে করে ফেললেন, এতেই হয়ে গেলো আপনার ‍ডিজিটাল মার্কেটিং।





ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?


প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে দিনদিন মানুষ ততই অলস হচ্ছে। আর এই অলসতার মূল কারন ডিজিটালাইজেশন। ডিজিটাল ব্যবস্থা মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ গুলোকে এতই সহজ করেছে যে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে রিক্সাচালক প্যাডেল দিয়ে রিক্সাচালিয়ে ইনকাম করতো ১০০ টাকা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেই রিক্সায় মটর লাগিয়ে ইনকাম করছে ৫০০ টাকা। একদিকে যেমন তার  শারিরিক পরিশ্রম কমেছে, অন্যদিকে তার ইনকামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিজিটালাইজেশনের ফলে মানুষরে চিন্তা ধারা, চাহিদা ও রুচির পরিবর্তনও লক্ষনীয়। একটা সময় পরনের একটি শার্ট কিনতে পায়ে হেটে কয়েক মাইলের পথ পারি দিয়ে বাজারে গিয়ে কিনতে হতো। নিজের পরনের শার্টটা পছন্দ করে কিনতে পারলেও পরিবারের পছন্দ সেখানে প্রাধান্য পেতো না। সাইজ ছোট হওয়া, কাপড়ের রং পছন্দ না হওয়া ইত্যাদি কারনে কস্ট করে পায়ে হেটে কিনে আনা শার্টটিও হয়ে যেতো মূল্যহীন।
ডিজিটাল ব্যবস্থা এই সমস্যাটির এতটাই সহজ সমাধান করেছে যে, এখন যে কেউ ইচ্ছা করলেই নিজের পছন্দমতো শার্ট দেখে অনলাইনে অর্ডার করলেই পৌছে যায় মুহুর্তের মধ্যেই। একদিকে সময় বাচে, অন্যদিকে নিজের পছন্দও প্রাধান্য পেয়ে থাকে। আর ডিজিটার ব্যবস্থার সুফল একেই বলে।




এবার আসা যাক মুল প্রসঙ্গে,  ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে থেকে চাহিদা সম্পন্ন একটি সেক্টর। যতই দিন যাচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশে খুব কম মানুষই এই পেশায় জড়িত। দিন দিন যেহেতু এর চাহিদা বেড়েই চলেছে, আপনিও যে কোনো একটি ডিজিটাল বিষয়ের উপর কাজ শুরু করে দিতে পারেন।
ডিজিটাল মার্কেটিং হলো এমন একটা মাধ্যমে যেখানে আপনি যদি ভালো ভাবে কাজ করতে পারেন মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা কোনো ব্যপারই হবেনা।

ডিজিটাল মার্কেটিং এ জন্যই করবেন যে, আপনার পণ্যটি বাংলাদেশের এমন একটি জায়গায় পৌছাতে চান যেখানে মানুষের সহজে যাওয়া সম্ভব নয়। আর এই কাজটিই করবেন ঘরে বসে ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ওয়েবসাইট দ্বারা।
বাংলাদেশের এমনও যায়গা আছে যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি ছোয়া লেগেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই পৌছে যেতে পারেন সেখানে। ঘরে বসেই আপনার পছন্দনীয় যে কোনো পন্য বিক্রির প্রচারনা করে ইনকাম করতে পারেন মোটা অংকের টাকা।
সুতরাং ডিজিটাল মার্কেটিং এজন্যই করবেন যে, একদিকে আপনার সময় বাচাবেন, অন্যদিকে পরিশ্রম না করে মেধা খাটিয়ে, তথ্যপ্রযুক্তিকে সঠিক কাজে লাগিয়ে যে কোনো পন্য বিক্রির ব্যবস্থা করবেন, এবং ঘরে বসেই অনলাইন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা বুঝে পাবেন।



ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন?


উপরের সবগুলো বিষয় সঠিকভাবে জানা হয়ে গেলে, এবার আপনার কাঙ্খিত লক্ষে নেমে পড়ুন। আপনার যদি নিজের তৈরী প্রোডাক্ট থাকে সেগুলোর উপর কাজ শুরু করুন। মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

আর যদি আপনার নিজস্ব কোনো প্রোডাক্ট না থাকে, তাহলে অন্যকোনো কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। বর্তমান সময়ের আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনি চাইলে যেকোনো নাম করা এফিলিয়েট প্রোগ্রামে একাউন্ট খোলে সেখান থেকে নির্দিষ্ট পণ্যর উপর কাজ শুরু করতে পারেন। জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের মধ্যে অন্যতম হলো এ্যামাজন, আলীবাবা, আলীএক্সপ্রেস, ইবে ইত্যাদি। এছাড়াও বাংলাদেশে অনেক ইকমার্স সাইট রয়েছে যারা কমিশনের ভিত্তিতে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের সুবিধা দিয়ে থাকে।

ইন্টারনেটের যতগুলো মাধ্যম রয়েছে এর প্রায় সব গুলো মাধ্যমেই ডিজিটাল মার্কেটিং করা সম্ভব। মূল কথা হলো কিভাবে আপনার প্রোডাক্টের বিক্রয় করবেন সেটিকে নিয়ে কাজ করা। অর্থ্যাৎ আপনি যদি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আপনার প্রোডাক্ট বিক্রির কথা বলেন তাহলে কিন্তু ডিজিটাল মার্কেটিং হবেনা। আপনাকে আপনার ঘরে বসে কিভাবে প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন এবং ঘরের কাছে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করবেন সেটােই হলো ডিজিটাল মার্কেটিং।




বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইন্সট্রগ্রাম এবং ব্লগিং করে যারা টাকা ইনকাম করছে তাদেরকেও ডিজিটাল মার্কেটার বলা যায়। প্রত্যেক মাধ্যমের আলাদা আলাদা পরিচয় থাকায় ডিজিটাল মার্কেটার কথাটি তেমন একটা মানায় না।

কিন্তু সামগ্রিক ভাবে বিবেচনা করলে ফেসবুক থেকে ইনকাম, ইউটিউব থেকে ইনকাম, ব্লগিং থেকে ইনকাম সহ যেসব মাধ্যম দ্বারা ঘরে বসেই ইনকাম করা যায় সবগুলোকেই ডিজিটাল ইনকামের পন্থা বলা যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং করতে যেসব কাজ জানা লাগবে এবং যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করা লাগবে সব গুলো বিষয় সংক্ষিপ্ত আকারে জানার চেস্টা করি।


ওয়েবসাইট তৈরী


সবকিছু বিবেচনায় ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মূল উপাদান যেটি সেটি হলো একটি ওয়েবসাইট থাকা।
ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার জন্য আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে। প্রথমে একটি ডোমেইন, হোস্টিং, থিম, দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরী করুন।    ওয়েবসাইটের ডিজাইন আকর্ষনীয় ও এসইও ফ্রেন্ডলি হতে হবে। ডিজাইন ভালো মানের করার জন্য পেইড একটি থিমস কিনে ব্যবহার করতে হবে। যাতে করে সাইটের ডোমেইন নেম দিয়ে কেউ সার্চ করলে যেনো সহজেই পেয়ে যায়। সাইটের ডিজাইন আকর্ষনীয় ও এসইও ফ্রেন্ডলি করার পর  ওয়েবসাইটে আপনার প্রোডাক্ট গুলো সর্ম্পকে  আর্টিকেল আকারে বিস্তারিত লিখুন। উক্ত ওয়েবসাইটের আপনার কাঙ্খিত পন্যগুলোকে নিয়মিত আপডেট করুন।
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করা তুলনামূলক অন্যান্য মাধ্যম থেকে সহজ ও লাভনীয়। ভালোভাবে ওয়েবসাইটের এসইও করতে পারলে আপনার কাঙ্খিত প্রোডাক্টকে কোনো প্রকার এডভারটাইজমেন্ট ছাড়াই বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারেন। আপনাকে মার্কেট রিসার্চ করে দেখতে হবে কোন ধরনের পন্যর মার্কেটে বিক্রির চাহিদা বেশি। সেই ধরনের প্রোডাক্টের উপর ভালোভাবে এসইও করতে পারলে আমি নিশ্চিত আপনার পণ্যর বিক্রি অনেক গুন বেড়ে যাবে। আপনিও লাভবান হবেন।






সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO),


বর্তমান সময়ের মানুষগুলো বেশির ভাগই গুগলের উপর নির্ভরশীল, তাদের যে কোনো কাজের প্রয়োজনে, তথ্যের প্রয়োজনে গুগলের সহযোগিতা নিয়ে থাকে। এমনকি মার্কেটে কোন পণ্যটি বেশি ভালো কোন পণ্যটি বেশি বিক্রি হচেছ, কম টাকায় ভালো পণ্য কোনটি সব বিষয় নিয়ে সার্চ করে থাকে।

মানুষের চাহিদার উপর ভিত্তি করে সঠিক প্রোডাক্টের উপর ভালো ভাবে এসইও করতে পারলে ক্রেতা তার পছন্দের পন্যটি আপনার সাইটের মাধ্যমে ক্রয় করে থাকবেন। এসইওর মাধ্যমে মানুষের কাছে আপনার প্রোডাক্টের বিস্তারিত তথ্য পৌছাতে পারলে পন্য বিক্রি নিয়ে কোনো প্রকার টেনশন করা লাগবেনা। ভালো ভাবে এসইও করার জন্য প্রয়োজন ভালো কিওয়ার্ড রিসার্চ, কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে কম কম্পিটিশনের কিওয়ার্ড বাছাই করতে পারলে যে কেউ গুগল বা অন্যান্য মাধ্যমে সার্চ করলে আপনার ওয়েবসাইটে এসে আপনার পণ্যটিকেই অর্ডার করবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ এজন্যই শিখবেন কেউ যখন কোনো কিছু পন্য কেনার প্রয়োজন মনে করে তখন তারা প্রথমেই গুগলের সাহায্যে নিয়ে থাকে। আপনি যদি ভালো ভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে প্রচার করতে পারেন বিনা প্রচারেই আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি হয়ে যাবে।




নিচের প্রথম ছবিটি হলো পেইড এসইও রেজাল্ট, এখানে ওয়েবসাইটের মালিক গুগলে টাকার বিনিময়ে তার ওয়েবসাইটটিকে এডভারটাইজ করেছেন। এ ধরনের এডস গুগল থেকে সার্চকারীর সামনে উপস্থাপন করে থাকে। সেটাও আবার সেই প্রোডাক্ট রিলেটেড কোনো সাইটের সাথে। একটু উদাহরণ দেওয়ার চেস্টা করি, মনে করুন কেউ একজন তার ব্রাউজার থেকে সার্চ করলো ভালো মোবাইল কোনটি’ এখন গুগল থেকে উক্ত কিওয়ার্ড রিলেটেড যত রেজাল্ট আছে সেগুলোকে ফলাফল আকারে প্রদর্শন করবে। এবং সেই রিলেটেড সাইটের সাথে আপনার পেইডকৃত এডের ওয়েবসাইটটিও তাদের সামনে উপস্থাপন করবে। এজন্য অবশ্য গুগলে এড রান করার পূর্বে তাদেরকে বলে দিতে হয় এটি কোন ক্যাটাগরির পণ্য। তাহলে গুগল থেকে অটোমেটিক ভাবে সেই রিলেটেড সাইটের সাথেই আপনার সাইটটিকেও প্রদর্শন করবে। এতে করে ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে ক্লিক করে প্রবেশ করবে এবং তাদের কাঙ্খিত পণ্যটিকে অর্ডার করবে।

এবার দ্বিতীয় ছবিটির দিকে লক্ষ করুন। সার্চকৃত রেজাল্টের পাশে কোনো এডভারটাইস নেই। তারপরও  ভিজিটর যখন তার পছন্দের কিওয়ার্ডটি দিয়ে সার্চ করেছে তখন গুগল থেকে এভাবে ফলাফল করেছে। আর এর মূল কারন হলো ভালো মানের এসইও করা। ভালো মানের এসইও করতে পারলে টাকা দিয়ে এডস করানোর কোনো মানে হয় না।


Digital marketing



সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM),


এসইও অংশে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি পেইড সার্চ সম্পর্কে। এই অংশটি হলো সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং। 
সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বা SEM এটি অনেক টপ সিক্রেট মার্কেটিং কৌশল যার  মাধ্যমে আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইটে অথবা পেইড মার্কেটিং করে থাকলে গুগল দ্বারা প্রমোটকৃত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপনার প্রোডাক্টটি সম্পর্কে প্রদর্শন করবে। টাকার বিনিময়ে গুগল দ্বারা করে থাকলে তাকে  Paid সার্চ মার্কেটিং বলা হয়। এই ধরনের প্রচারনার জন্য প্রথমে আপনাকে সিদ্বান্ত নিতে হবে কোন প্লাটফর্মে এড ক্যাম্পেইন করবেন। এড ক্যাম্পেইন করার কয়েকটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হলো গুগল এডস, মাইক্রোসফটের বিং, এবং ইয়াহু নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। 

উল্লেখিত মাধ্যম গুলোতে এড ক্যাম্পেইন আপনার বাজেট ও চাহিদার উপর নির্ভর করে। আপনার প্রোডাক্টের প্রচারনা কোন পদ্ধতিতে করবেন সেটাও বলে দিতে পারবেন। যেমন আপনি যদি মনে করেন PPC (পে-পার-ক্লিক ) অথবা সিপিসি (খরচ প্রতি ক্লিকে) মডেল বা সিপিএম (খরচ প্রতি হাজার ইমপ্রেশন) ইত্যাদি নির্ধারন করে দিতে পারবেন।


মনে করুন আপনার এড ক্যাম্পেইনটি বাংলাদেশে করতে চান, এখন গুগল এডস দ্বারা ক্যাম্পেইন করলে সেখান থেকে আপনাকে একটি রেট দেওয়া হবে, মনে করেন যদি আপনার এই ক্যাম্পেইনটি বাংলাদেশে পরিচালনা করেন তাহলে PPC (পে-পার-ক্লিক ) হিসেবে গুগল এডসকে দিতে হবে ২ টাকা , বা ৩ টাকা, এভাবে ১০০০ হাজার টাকার মধ্যে ক্যাম্পেইন করলে আনুপাতিক হারে যতগুলো ক্লিক প্রয়োজন ততগুলো ক্লিক সম্পূর্ন হয়ে গেলে আপনার ক্যাম্পেইনটি অটোমেটিক স্টপ হয়ে যাবে। একটি এড ক্যাম্পেইন একদিন অথবা দুইদিন অথবা আপনার ইচ্ছামতো যতদিন পারেন চালাতে পারেন। এড ক্যাম্পেইন বেশিদিন চালালে সেই অনুযায়ী টাকাও খরচ করতে হবে সেই পরিমাণ।

এখন যদি বাংলাদেশ থেকে কেউ আপনার এডে ক্লিক করে তাহলে আপনার হিসেবে একটি ক্লিক জেনারেট হয়ে যাবে। এভাবে গুগল এডস বা অন্যান্য এড নেটওয়ার্ক ১০০০ হাজার টাকার মধ্যে কতগুলো ক্লিক জেনারেট হয় তার ব্যবস্থা করে দিবেন। এভাবে আপনি নির্ধারন করে দিতে পারেন আপনার কত ক্লিক প্রয়োজন বা কত ভিজিটর প্রয়োজন। 


এছাড়াও এসইএম বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের হয়ে থাকে। এসইএম বিজ্ঞাপন অনুসন্ধান, মোবাইল মার্কেটিং, পুনঃবাজারজাতকরণের এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। SEM বর্তমান অনলাইন মার্কেটিং এর সব চেয়ে সাশ্রয়ী অনলাইন মার্কেটিং যা কিনা আপনার রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট বাড়াতে পারে। এই অংশে নিচের ছবিটি লক্ষ করুন , এভাবে এড দিয়ে মার্কেটিং করাকে বলে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং। 



কন্টেন্ট মার্কেটিং (Content Marketing)


আপনার প্রোডাক্টের উপর বিস্তারিত কন্টেন্ট লিখে ব্লগে পাবলিশ করুন। এবং লিখিত কন্টেন্টকে ভালোভাবে এসইও করুন। কম কম্পিটিশনের কিওয়ার্ড পছন্দ করুন যাতে করে সহজে গুগলে রেঙ্কিং করা যায়।
উপরের আলোচনার এসইও অংশটি কিন্তু আপনার কন্টেন্ট মার্কেটিংয়ের সাথে জড়িত। প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটে কাঙ্খিত প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালো মানের এসইও সমৃদ্ধ কন্টেন্ট লিখে সেটিকে পাবলিশ করতে হবে।
কন্টেন্টটি যদি নিজে থেকে ভালো ভাবে এসইও করতে পারেন তাহলে টাকা দিয়ে এডস নেটওয়ার্কে ক্যাম্পেইন করার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনার প্রোডাক্টটিকে যদি ভালো ভাবে এসইও করে আর্টিকেল লিখেন তাহলে আপনার প্রোডাক্টটি ভিজিটর নিজ থেকে খুজে বের করবে। ভিজিটর যখন গুগলে সার্চ করবে তখন যদি আপনার প্রোডাক্ট রিলেটেড কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে এবং আপনি যদি আপনার সাইটে সেই প্রোডাক্ট রিলেটেড কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করে থাকেন তাহলে ভিজিটর নিজ থেকেই আপনার প্রোডাক্টটিকে কেনার আগ্রহ করবে। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় পদ্ধতি এটিকেই বলা হয়।
অন্যথায় টাকা দিয়ে এড ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভিজিটরদের  দৃষ্টি আকর্ষন করতে হয়। ভিজিটর এতে আগ্রহ প্রকাশ করতেও পারে নাও করতে পারে। কারন এটি ভিজিটর নিজ থেকে খুজে বের করেনি এড নেটওয়ার্ক তাকে দেখিয়েছে।

প্রত্যেকদিন নির্দিষ্ট সময় পর পর কন্টেন্ট গুলোকে আপডেট করা উচিৎ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট পোস্ট করা ক্ষেত্রে অটোমেটিক পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিৎ। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জন্য আপনার বিষয়বস্তু কাস্টমাইজ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, মোবাইল ফোনের জন্য বিষয়বস্তু সহজ এবং সংক্ষিপ্ত হতে হবে। মনে রাখবেন, একটি কার্যকর কৌশল আপনার পাঠকদের জন্য তৈরি করবেন এবং তারা আপনার কাছ থেকে আরো তথ্য জানতে আগ্রহী হবে। একটি ভাল কন্টেন্ট শেয়ার করা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য সবচেয়ে ভাল উপায়।








এনালাইসিস শিখা,


ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এনালাইসিসের গুরুত্ব অনেক। মার্কেট সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করাকেই বলে এনালাইসিস। মার্কেটি এনালাইসিসের মাধ্যমে গ্রাহকের খুব কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব, আর এটির সবকিছুিই গুগল এনালাইসিস দ্বারা সম্ভব।

বিভিন্ন মাধ্যমের তথ্য উপাত্ত এনালাইসিস করা জানতে হবে। কোন এলাকার কোন পণ্যর চাহিদা বেশি, কোন মাসে বিক্রি বেশি হয় সেই বিষয়ে পারদর্শী হতে পারলে নিশ্চিতভাবে আপনার মার্কেটিংয়ের প্রসার বৃদ্ধি করতে পারবেন। আপনার টার্গেট অনুযায়ী কাজ করলে শতভাগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। নিচের জনপ্রিয় কয়েকটি মাধ্যমে থেকেও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করতে পারেন। গুগল, ফেসবুক, টুইটার, পিন্টারেস্ট ইত্যাদি। উক্ত মাধ্যম গুলোতে আপনি চাইলে সব কিছু বিশ্লেষন করে আপনার প্রোডাক্টের প্রচারনা চালাতে পারেন।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং


কমিশনের মাধ্যমে কোনো কোম্পানির পণ্যকে বিক্রি করে দেওয়ার ব্যবস্থাকে বলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অ্যফিলিয়েট মার্কেটিংকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রধান মাধ্যমও বলা চলে। অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক সহজ ও লাভনীয় মাধ্যম।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য প্রথমে আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে। তারপর অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক পছন্দ করতে হবে। এবং সেখানে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে হবে। অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক আপনার আবেদনটিকে অনুমোদন করা হয়ে গেলে তখন থেকেই শুরু করতে পারেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনার পছন্দের নিস বাছাই করে সেই নিস অনুযায়ী প্রোডাক্টের লিঙ্ক আর্টিকেল সহকারে আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করতে হবে। আপনার প্রমোটকৃত লিঙ্কে ক্লিক করে কেউ যদি কোনো প্রোডাক্ট অর্ডার করে তাহলে অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক আপনাকে কমিশন দিয়ে থাকবে।





ইমেইল মার্কেটিং


ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে ইমেইল মার্কেটিং। মানে ইমেইলের মাধ্যমে প্রোডাক্টের প্রচার করে বিক্রির ব্যবস্থা করা। ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে সরাসরি ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি। যার মাধ্যমে আপনি আপনার পন্যের এবং সেবার প্রচার করতে করতে পারবেন এবং আপনার সাইটের প্রচার করতে পারবেন। ইমেইলের মাধ্যমে মার্কেটিং করা অন্যান্য মাধ্যমে অনেক সহজ ও দ্রুত মাধ্যম।

বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি দেশের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ব্যবসার মার্কেটিং করছে। ইমেইল মার্কেটিং হল ক্রেতাদের কাছে আপনার পণ্যের তথ্য পৌছানোর সবচাইতে কাযকরী পদ্ধতি। ইমেইল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে যা বিবেচনায় রাখতে হবে- বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বয়সের কিংবা বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের ইমেইল এড্রেস জোগাড় করতে হবে , যে পণ্যের মার্কেটিং করতে চান, সেটি নিয়ে ভালভাবে রিসার্চ করুন, অন্য কোম্পানীর একই পণ্যকে নিয়ে ও তাদের মার্কেটিং কৌশল নিয়ে রিসার্চ করুন, সবচাইতে সহজভাবে আপনার প্রোডাক্টের গুণ বর্ণনা করুন।

ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য প্রয়োজন একটি ওয়েবসাইট, মার্কেটিং টুলস এবং পন্য বা সেবা। ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে মুহূর্তেই আপনি আপনার পণ্য এবং সেবা কে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের কাছে তুলে ধরতে পরবেন এবং এতে করে আপনার পন্যটি জনপ্রিয় হতে থাকবে। ফলে অটোমেটিকভাবে আপনার পণ্য অধিক পরিমানে বিক্রি হতে থাকবে ।



মোবাইল মেসেজ মার্কেটিং


আপনার ব্যবহৃত হ্যান্ডফোন দ্বারাও করতে পারেন ডিজিটাল মার্কেটিং। সেটা হলো মোবাইল মেসেজ মার্কেটিং। এসএমএস(SMS) , এমএমএস(MMS) এর মাধমে আপনার প্রোডাক্টের সংক্ষিপ্ত আকারে লিখে ক্রেতাকে জানিয়ে দিতে পারেন। মেসেজের সংখ্যা সংক্ষিপ্ত আকারে লিখে সেন্ড করুন। মেসেজের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিয়ে বলুন বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন এবং সেই লিঙ্কে ক্লিক করে চলে আসবে সরাসরি আপনার সাইটে। সেখান থেকে তাদের পছন্দ মতো প্রোডাক্ট অর্ডার করলেই আপনার ইনকাম হবে। সোজা কথায় যেভাবেই হোক আপনার কাঙ্খিত প্রোডাক্টের কাছে নিয়ে আসতে পারলেই আপনি সফল।



রেডিও এডভারটাইজিং  মার্কেটিং


বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় রেডিও চ্যানেল রয়েছে যারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কোম্পানির এড প্রচার করে থাকে। রেডিওর মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে বলে প্রচার করতে পারেন। বিভিন্ন লোভনীয় অফারের কথা বলতে পারেন। সবশেষে বিস্তারিত জানার জন্য আপনার ওয়েবসাইটের এড্রেসটিকে দিয়ে দিন।


টেলিভিশন এডভারটাইজিং মার্কেটিং


রেডিওর মতো টেলিভিশনেও আপনার প্রোডাক্টকে এড আকারে প্রচার করতে পারেন। বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে যারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কোম্পানির এড প্রচার করে থাকে। টেলিভিশনে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে প্রচার করতে পারেন। বিভিন্ন লোভনীয় অফারের কথা বলতে পারেন। সবশেষে বিস্তারিত জানার জন্য আপনার ওয়েবসাইটের এড্রেসটিকে দিয়ে দিন। ওয়েবসাইটিতে প্রবেশ করে কোনো প্রোডাক্ট অর্ডার করলেই আপনার ইনকাম হয়ে যাবে।


স্যোসাল মিডিয়ায় এডভারটাইজিং


বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে প্রচার করতে পারেন। জনপ্রিয় স্যোসাল মিডিয়ার মধ্যে অন্যতম ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইন্সট্রগ্রাম এসব মাধ্যম গুলোতে আপনার নিজের অথবা আপনার ব্র্যান্ডের নামে একটি করে একাউন্ট খুলে সেখানে আপনার প্রোডাক্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেস্টা করুন। এবং সেখানে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক প্রমোট করুন। ফেসবুকে গ্রৃপ খুলে সেখানে প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে ফ্রেন্ডদের সাথে শেয়ার করুন।
একই ফেসবুকেই আরেকটি পেজ খুলে সেই পেইজে নিয়মিত আপনার ফলোয়ারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের নিয়মিত আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে আপডেট তথ্য দিন। তাদের মতামতকে প্রাধান্যে দিয়ে পরবর্তী কাজ নির্ধারন করুণ।




পরিশেষে বলতে চাই, ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হবে ডিজিটালের মতোই। যেখানে কোনো প্রকার এনালগ সিস্টেম থাকবেনা। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সফল হওয়ার জন্য পরিকল্পনা মাফিক এগুতো হবে। ডিজিটাল মার্কেটিং যেমন ঘরে বসে মানুষের দ্বারে না গিয়েও করতে পারেন ঠিক তেমনি এই সেক্টরে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়, দৈর‌্য, মার্কেট সম্পর্কে পর‌্যাপ্ত জ্ঞান ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সাফল্যের দিকে এগিয়ে চলা। লেখায় কোনো প্রকার অসঙ্গতি বা কোনো প্রকার ভুল থাকলে দয়া করে মতামত জানাবেন চেস্টা করবো শুধরে নেওয়ার। পুরো লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।






লেখক : মামুন সরকার

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো