এসইও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন,

এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন)

এসইও কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এসইও কিভাবে করতে হয় এর উত্তর পাওয়ার আগে আপনাকে জানতে হবে আসলে এসইও কি? ও কেনো এসইও প্রয়োজন। এসইও হলো সার্চ ইঞ্জিনের সাথে কোন একটা সম্পর্ক। অর্থাৎ গুগল অথবা বিং অথবা এমাজনের সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম মেনে কোনো আর্টিকেলকে গুগলের প্রথম অথবা শীর্ষ দশে নিয়ে আসাই মূলত SEO এর কাজ। আপনার সুবিধার জন্য বলে রাখা ভালো, ইন্টারনেট দুনিয়ায় মানুষ প্রতিদিন হাজার হাজার বিষয় ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে। এখন কথা হলো বিষয় যদিও অনেকেরই একই বটে কিন্তু লেখার উপস্থাপন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আপনি যদি নিয়মিত লেখালেখি করেন সেই লেখাগুলোকে মানুষের কাছে কিভাবে পৌছাবেন? নিশ্চয়ই বলে কয়ে সারাজীবন আপনার লেখাগুলোকে প্রমোট করবেন? যদি হ্যা হয় তাহলে আজ থেকেই লেখালেখি বাদ দিয়ে অন্যকাজে লেগে পড়ুন। আর যদি না হয় তাহলে কি করতে হবে? অবশ্যই অবশ্যই আর্টিকেলকে এসইও করতে হবে। যাতে করে গুগোল থেকে মানুষ নিজ ইচ্ছায় সার্চ করে আপনার লেখাগুলোকে খুজে নেবে। অর্থাৎ আপনাকে অপটিমাইজ জানতে হবে। এটা দুইভাবে বিভক্ত, প্রথমটি হলো অন পেজ এসইও, দ্বিতীয়টি হলো অফ পেজ এসইও।
অনপেজ এসইও হলো গুগল যে ধরনের আর্টিকেল পছন্দ করে তেমন করে লেখা, আর অফপেজ এসইও হলো অন্য কোনো ওয়েবসাইট কিংবা সোস্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন ফোরামে আপনার সাইটকে সংযুক্ত করা বা ব্যাকলিংক করা।




যে কোনো ব্যাক্তি কোনো তথ্য খোজ করলে যাতে সবচেয়ে সঠিক তথ্যটি খুজে পেতে পারে সেজন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো কিছু প্রোগ্রাম তৈরী করে রেখেছে। যে প্রোগ্রামগুলোর কাজ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোর মধ্যে কিছু পযালোচনা করে সঠিক সাইটগুলোকে সামনে নিয়ে আসা। সার্চ ইঞ্জিনের প্রোগ্রামগুলো অনেক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সম্পাদন করে থাকে। যেমন, ওয়েবসাইটের কনটেন্ট, ইউনিক ও প্রাসঙ্গিক তথ্য, সাইটের স্ট্রাকচার, ডিজাইন ইত্যাদি। সহজ কথায় এসইও মানে সার্চ ইঞ্জিনগুলো যে মানদন্ডের উপর ভিত্তি করে সাইটগুলোকে র‌্যাঙ্ক করে এবং ফলাফল প্রকাশ করে, সেই বিষয়গুলো মেনে সুনির্দিষ্টভাবে সাইটকে অপটিমাইজ করা। সফলভাবে একটি সাইট এসইও করলে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড ভিত্তিক সাইটটি উপরের দিকে আসবে। অর্থাৎ কোনো ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে নিয়ে আসার জন্য যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয় সেটিকেই এসইও বলে। যখন একটি ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে থাকবে তখন ওয়েবসাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি পায়। ফলে ইনকামও বৃদ্ধি পায়। ধরুন একজন ব্যাক্তি গুগোল সার্চে কিছু একটা লিখে সার্চ করলো এবং ফলাফলে গুগোল সার্চ হাজারো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ওয়েবসাইট ফলাফল দেখালো। কিন্তু এক্ষেত্রে উক্ত ব্যাক্তি প্রথমদিকে যে প্রতিষ্ঠানের নামগুলো পাবেন সে সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই একটিকে বেছে নিবে। ফলে আপনি সার্চ করলে যে ওয়েবসাইটটি সবার উপরে আসবে সেই সাইটটিই বেশি ভিজিটর পাবে এবং আয়ও বেশি করবে। এসইও মূলত দুইপ্রকার- অনপেইজ এসইও, অফপেইজ এসইও। চলুন দুটি বিষয়ে জানা যাক।

প্রথমে , অনপেইজ এসইও অপটিমাইজেন-On Page SEO optimization


আজকের এই প্রতিযোগিতার যুগে BLOGGING এর Profession এ ক্যারিয়ার তৈরী করাটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। আজ ইন্টারনেটের বদৌলতে যেকোনো বিষয় টপিক বা NICHE নিয়ে হাজার হাজার তথ্য বা ভালো ভালো কনটেন্ট সহজেই লোকেরা পেয়ে যাচ্ছেন। এই ক্ষেত্রে আপনি যদি Search engine optimization এর ব্যাপারটা নিয়ে সতর্ক না থাকেন তাহলে গুগোল সার্চ থেকে যথেষ্ট Traffic বা Visitors পাওয়াটা আপনার জন্য কঠিন হয়ে দাড়াবে। কেবল ভালো ভালো ইউনিক কনটেন্ট লিখে এবং সঠিক এসইও অপটিমাইজেশন টেকনিক গুলির ব্যবহার করেই গুগল সার্চ থেকে ট্রাফিক পেতে পারেন। মনে রাখবেন অনপেজ এসইও টেকনিক গুলি যতটা ভালো ভাবে এপ্লাই করবেন সার্চ ইঞ্জিন থেকে ততটাই ভালো ভাবে ভিজিটর এবং ট্রাফিক পাওয়ার সুযোগ আপনার ব্লগের হয়ে দাড়াবে।
অনপেজ এসইওর কাজ এটাই যে, বিভিন্ন মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগসাইটের কন্টেন্ট গুলিকে সার্চ ইঞ্জিন গুলির জন্য অপটিমাইজ করা। এই ক্ষেত্রে করা প্রত্যেক অপটিমাইজেশন টেকনিক গুলি কেবল ব্লগের ভেতরেই সীমিত থাকে। মানে নিজের ব্লগের বা ওয়েবসাইটের মধ্যে সীমিত থেকে যেগুলো SEO Techniques ব্যবহার করা যেতে পারে সেগুলোকে বলে On Page SEO টেকনিক। কিছু বছর পূর্বেও অনপেজ এসইও বা খালি এসইও বললে আমরা কেবল ব্লগের আর্টিকেলে কীওয়ার্ড এর প্রচুর ব্যবহার করাটাই ভাবতাম। ব্লগের আর্টিকেলে কীওয়ার্ড এর সীমাহীন ব্যবহার করেই আমরা গুগল সার্চকে সহজে সিগন্যাল দিতে পারতাম এবং আর অন্য কিছু করার কোনো প্রয়োজন হতোনা। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়ন যতটা বেশি হচ্ছে ততটাই উন্নতি হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিনবোট গুলির। ফলে ২০২১ এর এখনকার সময়ে কেবল ব্লগের আর্টিকেলের জায়গায় সীমাহীন কিওয়ার্ড ব্যবহার করেই এসইও করা চলবে না। যাকে বলা হয় Over keyword optimization বা keyword stuffing.
আর্টিকেলে কীওয়ার্ড ব্যবহার এর গুরুত্ব এখনো আছে যদিও, আপনি একি কীওয়ার্ড সীমাহীন সংখ্যায় ব্যবহার করলে গুগল আপনার ব্লগকে কিছুদিন ট্রাফিক দিলেও পরের সময়ে ১ থেকে ২ মাস পর Penalize অবশ্যই করবে। যার ফলে Over keyword optimize করা আপনার আর্টিকেল গুলি গুগল সার্চে আর কোনো সময় দেখানো হবেনা।

তাই এখনের সময়ে অন পেজ এসইও বললে ব্লগের আর্টিকেলের বিষয়ের সাথে জড়িত Keyword গুলি সীমিত পরিমানে এবং জরুরী কিছু জায়গায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। একেই বলা হয় এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল। এছাড়াও আরো অনেক বিষয় এবং টেকনিক রয়েছে যেগুলোকে অনপেজে এসইওর ক্ষেত্রে আপনার অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। 





Optimizing content for search intent 

ইন্টারনেটে ৯০% আর্টিকেলে আপনপার পাবেন যে On page SEO মানে হলো আর্টিকেলের বিভিন্ন জায়গায় টার্গেটেট কিওয়ার্ড ব্যবহার করে গুগলকে সিগন্যাল দেওয়া। তবে এই পক্রিয়া অবশ্যই আগে কাজ করতো এখন আর কাজ করেনা। এখন গুগল সার্চ ইঞ্জিন বোট গুলি অধিক পরিমাণে উন্নত হয়ে গেছে এবং আপনি কোন বিষয়ে আর্টিকেল লিখছেন সেটা সহজেই বুঝে নিতে পারে। একজন ইউজার গুগল সার্চের মাধ্যমে কোন বিষয়ে তথ্য জানতে চাচ্ছেন সেটার ওপরে আপনার ধ্যান ধারনা দিতে হবে এবং সেই অনুসারে আর্টিকেল লিখতে হবে।
তাহলে কি করবেন? কিভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখবেন?
প্রথমে নিজের ব্লগের লিখা আর্টকেলের বিষয়ের সাথে জড়িত আলাদা আলাদা keyword, শব্দ, বাক্য এবং সার্চ টার্মস আর্টিকেলে ব্যবহার করতে হবে। উদাহরণ সহ বললে বুঝতে সুবিধা হবে, মনে করুন আমি একটি আর্টিকেল লিখছি এসইও মানে কি? এই বিষয়টি নিয়ে। এখন আমি যদি আর্টিকেলের বিভিন্ন পজিশনে কেবল এসইও মানে কি কীওয়ার্ডটি বার বার ব্যবহার করি তাহলে তাহলে ২০২১ সালের সার্চ ইঞ্জিনের নিয়মে পুরোটাই ভুল বলে বিবেচিত হবে। এই ধরনের আর্টিকেল গুলিকে গুগল low quality এবং over optimized content হিসেবে বিবেচিত করে থাকে। এর ফলে আপনার সাইটে অর্গানিক কোনো ট্রাফিক আসার সম্ভাবনা থাকছে না।
তাহলে কিভাবে গুগলকে সন্তুষ্ট করে কিওয়ার্ড বসিয়ে আর্টিকেল লিখা যায়? মনে করুন আমি এসইও কেনো প্রয়োজন? এই বিষয়ের উপর লিখি তাহলে উল্লেখিত keyword টি বার বার ব্যবহার না করে আমার মূল ফোকাস কিওয়ার্ডের সাথে রিলেটেড কিছু শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করার চেস্টা করবো। যেমন “এসইও কি” “এসইও বাংলা টিউটোরিয়াল” “অনপেজ এসইও কাকে বলে” “এসইও কিভাবে করতে হয়” “এসইও টিপস” “বাংলা এসইও কোর্স” “search engine optimization" শব্দগুলো এভাবেই আরো অনেক আলাদা আলাদা কীওয়ার্ড ব্যবহার করি। এভাবে ব্লগে লিখা আর্টিকেলে ফোকাস keyword এর সাথে related keyword ব্যবহার করলে তিনটি বড় লাভ হয়ে যায়।




Improve website loading speed ( ব্লগসাইটের স্পিড বৃদ্ধি)

ব্লগারদের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ % ওয়েবসাইটের পেজ লোডিং স্পিড নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামান না। আপনার নিজের বেলায় একবার দেখুন না? আপনি যখন গুগলের সার্চ রেজাল্টের জন্য কিছু লিখলেন তখন এমন হয়েছে কি একটি ওয়েবসাইটের পেজ খুলতে অনেক সময় নিয়েছে? তাহলে হয়তো আপনিও এরকম স্লো লোডিং ওয়েবসাইটে যাওয়ার সাথে সাথে মোবাইলের ব্যাক বাটন চেপে অন্য কোনো রেজাল্ট বা ওয়েবসাইট ভিজিট করেন? নিশ্চয়ই আপনিও আমার সাথে একমত হবেন। গুগল এ ধরনের স্লো লোডিং ওয়েবসাইটকে কখনোই র‌্যাংক করবেনা। সুতরাং ওয়েবাসাইটের ভিজিটর বাড়াতে এবং গুগলে আর্টিকেলকে rank করাতে আপনার সাইটের লোডিং স্পিড চেক করে নিন। স্লো হলে যা যা করনীয় করে নিন। ব্লগসাইটের লোডিং স্পিড টেস্ট করতে "Google page speed inside" "tools.pingdom" এবং "gtmetrix" ব্যবহার করতে পারেন। আপনার সাইটের লোডিং স্পিড যদি ৩ সেকেন্ড এর থেকে বেশি সময় নিয়ে থাকে তাহলে আপানার সাইটের পেজ লোডিং স্পিড নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখা ভালো একটি স্লো লোডিং সাইট থেকে ট্রাফিক বা ভিজিটর পাওয়ার সুযোগ ৭০ থেকে ৭৫ % কমে যায়।

কিভাবে ব্লগসাইটের স্পিড বাড়াবেন?
১। ব্লগে ব্যবহৃত ছবিকে টুলস দ্বারা compress করে ৫০কেবির মধ্যে রাখার চেস্টা করবেন
২। ভালো কোনো কোম্পানি থেকে হোস্টিং ব্যবহার করবেন
৩। ভালো একটি প্রিমিয়াম থিমস ব্যবহার করবেন।
৪। একটি CDN (content delivery network ) ব্যবহার করবেন।





দ্বিতীয়ত অফপেইজ অপটিমাইজেশন- Off Page SEO optimization

অফ পেইজ অপটিমাইজেশন কে আমরা লিংক বিল্ডিংকে বলতে পারি। অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিনের প্রথমে কোনো ওয়েবসাইটকে আনার জন্য ঐ ওয়েবসাইটের সাথে সম্পর্কিত অন্য ওয়েবসাইটের লিংক বা সংযুক্ত করাকে বলা হয় লিংক বিল্ডিং আর লিংক বিল্ডিং করার পূর্ন প্রক্রিয়াই হলো অফপেইজ এসইও অপটিমাইজেশন।
অফপেইজ অপটিমাইজেশন কেনো প্রয়োজন? যে কোনো ওয়েবসাইটের জন্য অনপেইজ এর পাশাপাশি অফপেইজ এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ন।

অফপেইজ এসইওর সুবিধা :
১। অফপেইজ অপটিমাইজেশন করে যে কোনো ওয়েবসাইটের পেইজ র‌্যাঙ্ক বাড়ানো যায়।
২। কোনো সাইটের ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য অফ পেইজ অপটিমাইজেশন অপরিহার‌্য ।
৩। অফ পেইজ বলতে লিংক বিল্ডিংকে বোঝায় তাই একটি সাইটের সাথে অন্য সাইটের লিংক করতে অফপেইজ অপটিমাইজেশন দরকার হয়।
৪। কোনো সাইটের প্রচারের জন্য অফপেইজ অপটিমাইজেশন অপরিহারর‌্য।


অফপেইজ এসইও কাজ করার জন্য দরকার হয় কোনো ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট একটি নেটওয়ার্ক যেটা তৈরী হয় অন্য ওয়েবসাইটের সাথে লিংক বিল্ডিং বা যুক্ত হয়ে থাকে। অফ পেইজ অপটিমাইজেশন এর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় :

১। লিংক বিল্ডিং করার পদ্ধতি সমূহ জানা।
২। ওয়েব ব্রাউজিং জানা
৩। একটি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার।
৪। ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকা।

অফপেইজ এসইও কোথায় করবেন?
১। ফেসবুক,
২। টুইটার,
৪। ইন্সট্রাগ্রাম,
৫। পিনটারেস্ট,
৬। যে কোনো ওয়েবসাইট বা ব্লগসাইটে,
৭। ফোরাম পোস্টিং এর মাধ্যমে,
৮। গেস্ট পোস্ট এর মাধ্যমে,
৯। ইউটিউব এর মাধ্যমে।

আজ এখানেই শেষ করছি। লেখায় কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না । পুরো লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্যা ধন্যবাদ।




লেখক : মামুন সরকার।

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো