ব্লগার


কিভাবে একজন ভালো ব্লগার হ‌ওয়া যায়?

নিয়মিত আর্টিকেল পোস্ট করলেই ভালো ব্লগার হওয়া যায়না। একজন ভালো ব্লগার হওয়ার জন্য প্রয়োজন অনেক গুলো গাইডলাইন অনুসরণ করা। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।


১। ব্লগের বিষয় বা নিস ঠিক করা

ব্লগিং শুরু করার ক্ষেত্রে যেমন গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্লগের বিষয় ঠিক করা, তেমনি ব্লগিং শুরু করার পরও সহায়ক ভুমিকা হিসেবে পালন করে থাকে ব্লগের বিষয় বা নিস।

সঠিক নিস বাছাই করে ব্লগিং করতে পারলে কখনোই পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। বিষয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে - নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ভিজিটরদের বোঝানোর দক্ষতার কথা বিবেচনা করেই ব্লগিং শুরু করা উচিত। আপনাকে সঠিক বিষয় বাছাই করে ব্লগিং করতে হবে। আপনি যে বিষয়ে জানেন, সেই বিষয়ে ব্লগিং করুন। একজন ভিজিটরের চাহিদাকে পূরণ করার জন্য নিজ থেকে গভীরভাবে অনুধাবন করে তারপর ব্লগের আর্টিকেল লেখা উচিত।

অর্থাৎ আপনি যে বিষয় নিয়ে কাজ করবেন সেই বিষয়ের উপরেই যত ধ্যানধারনা থাকতে হবে। অনেক ব্লগার বিভিন্ন বিষয়ের উপর ফোকাস করে ব্লগিং করে থাকে। এতে করে তার মূল নিসের উপর সঠিকভাবে কাজ করা হয়ে উঠে না। ভিজিটর তখনই একটি সাইটে আকৃষ্ট হয় যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর সকল প্রকার তথ্য খুজে পায়। কাজেই একজন ভালো ব্লগার হওয়ার জন্য অবশ্যই ব্লগের নিসের উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।


আরো পড়ুন> গুগল এডসেন্স না পাওয়ার কারন ও এডসেন্স পাওয়ার উপায়।


২। ডোমেইন, হোস্টিং, থিমস

অনেকেই ধারনা করতে পারেন ভালো ব্লগার হওয়ার সাথে ডোমেইন, হোস্টিং ও থিমের কি সম্পর্ক? আপনি যদি এখনো বিগেইনার লেভেলে থাকেন তাহলে বিষয়গুলো তেমন গুরুত্বপূর্ন মনে হবে না। কিন্তু যখন ব্লগিংয়ে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন তখনই বুঝতে পারবেন এগুলোর কেনো প্রয়োজন। যাইহোক, শিরোনামে উল্লেখিত তিনটি বিষয় ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ব্লগের নিস রিলেটেড ডোমেইন বাছাই, সাইটের সকল ডাটা সংরক্ষণ ও গতি বৃদ্ধির  জন্য হোস্টিং, এবং দেখতে আকর্ষণীয় করার জন্য ভালো মানের প্রিমিয়াম থিমস ব্যবহার করাও ভালো ব্লগার হওয়ার একটি গুন। মনে রাখবেন উল্লেখিত তিনটি জিনিস হালনাগাদ রাখতে পারলে নিয়মিত ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধার সম্মুখিন হতে হবে না। 

আপনি এমন একটি ডোমেইন কিনলেন যেটির অনুরূপ আরো অনেক ডোমেইন ইতিমধ্যে গুগলে র‌্যাংক হয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে আপনিও যদি সেই একই টাইপের ডোমেইন কিনেন তাহলে কখনোই সেটিকে পিছনে ফেলে আপনার সাইটটি র‌্যাংক করবে না। সম্পূর্ন ইউনিক টাইপের ডোমেইন দিয়ে ব্লগিং করলে দ্রুত গুগলে র‌্যাংক করানো সম্ভব।

ব্লগারে ব্লগিং করার জন্য কোনো প্রকার হোস্টিংয়ের প্রয়োজন নেই। গুগল নিজ থেকেই ফ্রিতে হোস্টিং সার্ভিস দিয়ে থাকে। কিন্তু ব্লগার ছাড়া ওয়ার্ডপ্রেস, ওয়িক্স, ওয়িবলি ইত্যাদি প্লাটফর্মের জন্য অবশ্যই হোস্টিংয়ের প্রয়োজন পড়ে। ভালো ব্লগার হওয়ার জন্য নিজের পছন্দ মতো সকল প্রকার প্লাগিন ব্যবহার করতে উল্লেখিত প্লাটফর্মে হোস্টিং কেনা খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়।

এবার আসা যাক থিমস প্রসঙ্গে, একটি ব্লগসাইটের মূল উপাদানই হলো থিমস। ব্লগিংয়ের শুরুতে অনেকেই ফ্রি থিমস ব্যবহার করে থাকে। ফ্রি থিমস দেখতে সুন্দর হলেও কোডের ভিতর অনেক সমস্যা থাকে। যার কারনে ব্লগসাইট গুগলে র‌্যাংক করে না। এছাড়াও ফ্রি থিমস ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়না। ভালো মানের আর্টিকেল পোস্ট করেও ব্লগিংয়ে সফল হতে পারেনা। সুতরাং ব্লগিং ক্যারিয়ারকে দীর্ঘায়িত করতে হলে ভালো মানের প্রিমিয়াম থিমের কোনো বিকল্প নেই।


আরো পড়ুন> ডোমেইন এবং হোস্টিং কি? ডোমেইন হোস্টিং কেনো প্রয়োজন?


৩। নিয়মিত ব্লগিং করতে হবে।

ভিজিটরদের মতামতের উপর ভিত্তি করে, তাদের চাহিদা মোতাবেক নিয়মিত ব্লগে আর্টিকেল পোস্ট করাও একজন ভালো ব্লগার হওয়ার উপায়। একজন ভালো ব্লগার যেটা করে থাকে ভিজিটরদের মতামতের উপর ভিত্তি করে দ্রুত আর্টিকেল পাবলিশ করে থাকে।


৪। SEO-সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)ব্লগের ক্ষেত্রে বিশাল একটি ফ্যাক্টর। সারা বছর কস্ট করে আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করার পর যদি সাইটে কোনো ভিজিটরই না আসে তাহলে আপনার সকল পরিশ্রমই বৃথা যাবে।আর্টিকেল লিখার ক্ষেত্রে এসইওকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।


৫। ব্লগের ভাষা পছন্দ করা

আপনি যে ভাষায় ব্লগিং করবেন, সেই ভাষার উপর আপনার ভালো দখল থাকতে হবে। বাংলায় ব্লগিং করলে ভাষাকে সাজিয়ে গুছিয়ে এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে ভিজিটর লেখাটি পড়তে আগ্রহী হয়। ব্লগ সাইটের জন্য যে কোনো একটি ভাষা বাছাই করুন যেটির উপর আপনার ভালো দক্ষতা আছে। ইংরেজি, বাংলা কিংবা অন্যান্য ভাষার সংমিশ্রণে সাইট তৈরি করবেন না। শুধু একটি ভাষায় উপর নিজের সকল অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করুন। আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতা থাকতে হবে‌। উপস্থাপনের দক্ষতার উপর আপনার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে।


আরো পড়ুন> নতুন ব্লগারদের ব্লগপোস্ট করার নিয়ম।


৬। সোস্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন সাইটে ব্লগসাইটকে উপস্থাপন করুন।

ফেসবুকে গ্রুপের মাধ্যমে, ইউটিউবে ভিডিওর মাধ্যমে, এবং বিভিন্ন সাইটে গেস্টপোস্ট করে নিজের অবস্থান তৈরী করুন একই সাথে ব্লগসাইটকেও প্রমোট করুন। তবে এগুলো যেনো স্পেমিং না হয়। আর্টিকেল রিলেটেড এমন মাধ্যমে শেয়ার করুন যাতে করে ভিজিটর পড়তে আগ্রহী হয়। আপনি যদি ইউটিউব নিয়ে আর্টিকেল লিখেন তাহলে ফেসবুক গ্রুপের ইউটিউব রিলেটেড গ্রুপে শেয়ার করুন।এভাবে শেয়ার করলে স্পেমিং হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। 


৭। সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিকে কাজে লাগানো

সৃজনশীলতা এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে ব্লগিং করলে অন্যান্য ব্লগারদের থেকে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ের আইডিয়া গুলোকে নোট করে পরবর্তীতে গুছিয়ে আর্টিকেল লেখা, অথবা ব্লগের মধ্যে লিখে ড্রাফট হিসেবে নোট করে রাখা। সময় পেলে সেগুলোকে সাজিয়ে গুছিয়ে লেখাও একজন ভালো ব্লগার হওয়ার কৌশল। অর্থাৎ যখনই আপনার ব্লগ কন্টেন্টের সাথে কোনো প্রাসঙ্গিক পোস্ট, ভিডিও বা খবর যা কিছুই হোক না কেনো সেটার উপর আর্টিকেল লেখা।


আরো পড়ুন> বিনা খরচে তৈরী করুন ওয়েবসাইট।


৮। ইউজার ফ্রেন্ডলি ব্লগ ও আর্টিকেল

সব কিছুর ওপরে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে ব্লগ সাইট ও ব্লগের আর্টিকেল যেনো ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়।

এক্ষেত্রে সাইটের স্পিড, ফ্রন্ট সাইজ, মোবাইল ইউজার ফ্রেন্ডলি হওয়া বাঞ্ছনীয়। ডেস্কটপ ভিউতে সবকিছু ঠিক দেখালেও মোবাইল ভিউতে ঠিকমতো নাও হতে পারে। সেজন্য mobiready  অথবা অন্য কোনো টুলস দিয়ে চেক করে দেখুন সাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি কি না।


৯। কিওয়ার্ড রিসার্চ করা

ব্লগিংয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়। কিওয়ার্ড কেনো রিসার্চ প্রয়োজন? তার আগে আপনি আমাকে বলেন, আপনি ব্লগে লেখা পোস্ট করবেন, কার জন্য করবেন? সেটা নিশ্চয়ই মানুষ পড়ার জন্য। এখন আপনি কিভাবে বুঝবেন মানুষ কোন বিষয় নিয়ে বেশি গুগলে সার্চ করে? এটা বুঝার জন্যই মূলত কিওয়ার্ড রিসার্চের প্রয়োজন। কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন কি বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি কিন্তু গুগলে পর‌্যপ্ত তথ্য নেই। সেটিকে কাজে লাগিয়ে আপনি যদি আপনার নিজস্ব জ্ঞানকে বিলীন করে দিতে পারেন, আমি নিশ্চিত আপনিও একজন ভালো ব্লগার হতে পারবেন।


পরিশেষে বলতে চাই আপনি যদি একজন পেশাদার ব্লগার হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে উপরের সকল বিষয়গুলো সঠিকভাবে মেনে কাজ করতে হবে।


আরো পড়ুন> অনলাইন থেকে আয় করার জনপ্রিয় কিছু মাধ্যম।


সংক্ষিপ্তভাবে কিছু কথা উল্লেখ করা হলো।


  • আর্টিকেল হল একটি ব্লগের প্রধান উৎস।
  • নিয়মিত আর্টিকেল লিখলে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে রেঙ্কিং এ সুবিধা হয় এবং ভিজিটরদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়।
  • একজন ব্লগারকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এ দক্ষ হতে হয়।
  • ভালো আর্টিকেল লিখতে পারলে, ভিজিটর ট্রাস্ট অর্জন করা সহজ হয়।
  • ভিজিটর ট্রাস্ট অর্জন করতে পারলে, গুগল সার্চ ইঞ্জিনে রেঙ্কিং এ সুবিধা হয় এবং ভিজিটররা আরও নতুন ভিজিটর উক্ত ব্লগে পাঠিয়ে করে থাকে।
  • কোন বিষয়ে প্রফেশনাল ব্লগিং করার জন্য প্রয়োজন- ভাষাগত দক্ষতা, উক্ত বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং সাবলীল ভাষায় লেখা উপস্থাপন করার ক্ষমতা।
  • নিয়মিত লিখলে- লেখালেখির দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
  • ব্লগে লেখার বিষয়বস্তু নির্বাচন করার সময় লক্ষ্য রাখতে হয়- উক্ত বিষয়ে যথেষ্ট পাঠক আছে কিনা এবং ব্লগারের নিজস্ব আগ্রহ আছে কিনা।
  • ব্লগ ডিজাইন এর সময় যতটা সম্ভব সাধারণ, দৃষ্টিনন্দন এবং ভালো ন্যাভিগেশন সমৃদ্ধ ডিজাইন করা।



লেখক: মামুন সরকার

ব্লগার ও ইউটিউবার।

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো